• নাকের ডগায় ইরানি রণতরী ডোবাল আমেরিকার টর্পেডো, ভারতের বন্দর ব্যবহার করছেন ট্রাম্প? জবাব MEA-র
    এই সময় | ০৫ মার্চ ২০২৬
  • ভারত থেকে বুধবার মহড়া সেরে ফেরার সময়ে ভারত মহাসাগরেই ইরানের নৌবাহিনীর রণতরী ‘আইআরআইএস ডেনা’ (IRIS Dena)-র উপর হামলা চালায় আমেরিকার সাবমেরিন। টর্পেডো ছুড়ে ধ্বংস করা হয় রণতরীটিকে। ঘটনায় কমপক্ষে ৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। প্রশ্ন উঠেছে, তা হলে কি ইরানের উপর সামরিক হামলার জন্য ভারতীয় বন্দরকেও ব্যবহার করা হচ্ছে? আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বেশ কিছু প্রতিবেদনেও এমনটাই দাবি করা হয়। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট জানিয়েছে ভারত সরকার। সাউথ ব্লকের (Ministry of External Affairs) তরফে বলা হয়েছে, এই দাবি সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং বিভ্রান্তিকর। এর সঙ্গে বাস্তবের কোনও সম্পর্ক নেই।

    সম্প্রতি আমেরিকার সংবাদমাধ্যম One America News Network (OAN)-এ একটি সাক্ষাৎকারে মার্কিন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ডগলাস ম্যাকগ্রেগর (US Army colonel Douglas Macgregor) দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে আমেরিকা নাকি ভারতের কিছু বন্দর বা নৌঘাঁটি ব্যবহার করছে। তাঁর বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এই তথ্য এবং তা নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়। এরই মধ্যে বিশাখাপত্তনম থেকে ফেরার পথে ভারত মহাসাগরে মার্কিন হামলার মুখে ইরানের রণতরী। তাতেই আরও হাওয়া পায় জল্পনা।

    যুদ্ধে আমেরিকাকে সাহায্য করার দাবি উঠতেই তড়িঘড়ি প্রতিক্রিয়া দেয় ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। MEA মুখপাত্র বলেন, ভারতের বন্দর ব্যবহার করে আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছে— এই তথ্য পুরোপুরি মিথ্যা। কেন্দ্র স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছে, ভারতের ভূখণ্ড বা বন্দর কোনও বিদেশি রাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে না।

    একইসঙ্গে কেন্দ্র সতর্ক করেছে যে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকলে এ ধরনের ভুল তথ্য বা গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই এই ধরনের খবর প্রচার করার আগে তথ্য যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সংঘাতের সময়ে ভুয়ো খবর কূটনৈতিক সম্পর্কের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

    পশ্চিম এশিয়ায় ইরান, আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলকে ঘিরে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। ইরানের দুবাই, কুয়েত, ওমান-সহ একাধিক দেশে লাগাতার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিশ্ব রাজনীতিতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশ নিজেদের কূটনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করছে। ভারত পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করে এসেছে বরাবরই।

    একদিকে ইরানের সঙ্গে ভারতের জ্বালানি ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে, অন্যদিকে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের সঙ্গেও কৌশলগত সহযোগিতা রয়েছে। তাই এই ধরনের অভিযোগ সামনে আসতেই ভারত সরকার দ্রুত তা খারিজ করে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, ভারতের ভূখণ্ড কোনও আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে না।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভুয়ো তথ্য বা ভুল ব্যাখ্যা সহজেই আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে। সেই কারণেই ভারত সরকার দ্রুত এই দাবি অস্বীকার করে অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

  • Link to this news (এই সময়)