অর্পিতা হাজরা
গুলির বদলে গুলি বা মারের পাল্টা মার— মাঝেমধ্যেই শোনা যায়। তা বলে পোষ্যকে কামড়ের প্রতিশোধ নিতে নিজের পোষ্যকে কামড়ানোর জন্য লেলিয়ে দেওয়া! এমন অভিযোগও এ বার উঠল। কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police) পঞ্চসায়র থানায় দু'পক্ষ একে অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। দু'পক্ষই আদালতে জামিনও নিয়েছে।
নেভির অবসরপ্রাপ্ত অফিসার রতনকান্তি চৌধুরীর বাড়ি নয়াবাদে। রতনকান্তি ও তাঁর স্ত্রী নিবেদিতার একটি জার্মান শেফার্ড কুকুর রয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে পোষ্যকে নিয়ে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন রতনকান্তি। সেই সময়ে গড়িয়ার বাসিন্দা, পেশায় পাইলট মহুয়া বৈদ্যের পোষ্য স্পিৎসকে নিয়ে বেরিয়েছিলেন তাঁর গাড়ির চালক। ছোটখাটো স্পিৎসকে কাছে পেয়ে তেড়ে যায় জার্মান শেফার্ড। কামড়ও বসিয়ে দেয়। মহুয়ার পোষ্যকে জার্মান শেফার্ডের হাত থেকে বাঁচাতে গেলে বিপাকে পড়েন তাঁর ড্রাইভারও। তাঁর জামা ছিঁড়ে দেয় রতনকান্তির কুকুর। রতনকান্তির স্ত্রী নিবেদিতার অভিযোগ, 'ওই রাতেই মহুয়া আমাদের বাড়ি এসে ঝামেলা করেন। অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।'
অন্য দিকে, মহুয়া পঞ্চসায়র থানার দারস্থ হন। কিন্তু এক সারমেয় অন্য সারমেয়কে কামড়ালে কোন ধারায় মামলা রুজু হবে তা নিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে যায় পুলিশ অফিসারদের। নিবেদিতা ও মহুয়াকে থানায় ডেকে পাঠিয়ে ঝামেলা মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেয় পুলিশ। মহুয়া স্পিৎসের চিকিৎসা এবং চালকের জন্য ১২,২৯০ টাকা ক্ষতিপূরণ চান। নিবেদিতা সেই টাকা দিয়েও দেন।
কিন্তু ডিসেম্বরের ৩০ তারিখ ফের ঝামেলা শুরু। সেই সন্ধ্যায় নিবেদিতা জার্মান শেফার্ডকে নিয়ে বের হয়েছিলেন। কিন্তু আবার মহুয়ার স্পিৎসকে দেখতে পেয়ে বেল্ট ছাড়িয়ে ছুট দেয় জার্মান শেফার্ড। সেদিন ড্রাইভার নয় মহুয়া নিজেই পোষ্যকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়েছিলেন। নিবেদিতা পরে দাবি করেন, 'আমার পোষ্যের মুখে মাস্ক পরানো ছিল। তাই এ বার কামড়ানোর কোনও প্রশ্নই ছিল না। কিন্তু মহুয়া আমায় দেখেই তুইতোকারি শুরু করেন। গালিগালাজ করতে থাকেন। শুধু তাই নয়, ওর কুকুরকে আমার পিছনে লেলিয়ে দেন। তাতেও থামেননি। আমার হাতটা নিয়ে ওঁর কুকুরের মুখে ঢুকিয়ে দেন। এরপরে কুকুরের কামড়ে আমার হাত দিয়ে ঝরঝর করে রক্ত পড়তে থাকে। মহুয়া তখন বলেছিলেন, দেখ কেমন লাগে।' নিবেদিতা পঞ্চসায়র থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
পাল্টা মহুয়াও পঞ্চসায়র থানায় নিবেদিতার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান। মহুয়া 'এই সময়'–কে বলেন, 'ওই জার্মান শেফার্ড ছোট স্পিৎসকে দেখে তেড়ে আসে। আমার কুকুরকে বঁাচাতে কোলে তুলে নিয়েছিলাম। তখন আমার ডান হাতে কামড়ে দেয় ওই জার্মান শেফার্ডই। কুকুরের মুখে কোনও মাস্ক ছিল না।'
দু'তরফের অভিযোগের পরে মহুয়ার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯১ (পোষ্যের মালিকের রক্ষণাবেক্ষণে অসতর্কতার জন্য অন্য কারও গুরুতর জখম বা প্রাণহানির সম্ভাবনা) এবং ৭৯ (মহিলার শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে অঙ্গভঙ্গি বা শব্দপ্রয়োগ) ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। অন্য দিকে, নিবেদিতা এবং রতনকান্তির বিরুদ্ধে বিএনএসের ২৯১ এবং ৩ (৫) (একাধিক ব্যক্তি মিলে সংগঠিত অপরাধ) ধারায় পুলিশ মামলা রুজু করেছে।
দু'পক্ষই আদালত থেকে জামিন নিয়েছে। চলতি বছরে ১৬ ফেব্রুয়ারি মহুয়ার বিরুদ্ধে পুলিশ চার্জশিট পেশ করে আলিপুর আদালতে। নিবেদিতা ও রতনকান্তির বিরুদ্ধেও চার্জশিট দ্রুত জমা দেওয়া হবে। দু'পক্ষই বিচারের আশায় রয়েছে।