এই সময়: বহু দিন পরে অবশেষে প্রত্যাশা পূরণ! গ্রামীণ হাওড়ার আমতায় বসতে চলেছে একটি ফায়ার ব্রিগেড স্টেশন (Fire Brigade Station)। সব ঠিকঠক থাকলে, আগামী সোমবারের মধ্যে যে কোনও দিন শিলান্যাস হতে চলেছে এই দমকল অফিসের। ইতিমধ্যেই প্রস্তাবিত ওই দপ্তরের জন্য প্রাথমিক কাজ সেরে ফেলেছে পূর্ত দপ্তর (PWD)। তৃণমূল (TMC) সরকার ইতিমধ্যেই এই জরুরি পরিষেবা খোলার উদ্যোগের জন্য উলুবেড়িয়া উত্তরের বিধায়ক নির্মল মাজীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।
সরকারি ভাবে জানা গিয়েছে, আমতা থেকে একদিকে জয়পুর, মুচিঘাটা ও উদয়নারায়নপুর, অন্য দিকে, বাগনান যাওয়ার জন্য নতুন রাস্তা জংশন। এই জংশনের অদূরে গগন এলাকায় প্রায় এক বিঘে জায়গার উপরে দ্বিতল বিশিষ্ট এই নতুন অগ্নিনির্বাপক কেন্দ্রটি গড়ে উঠবে। এই ফায়ার ব্রিগেড নির্মাণে ব্যায় ধরা হয়েছে ছ’কোটি টাকার বেশি। আমতার ফায়ার ব্রিগেড স্টেশনটি পুরোপুরি তৈরি হয়ে গেলে, হাওড়া জেলায় পাঁচটি এবং এর মধ্যে গ্রামীণ এলাকায় দু’টি এমন ফায়ার ব্রিগেড হবে। উলুবেড়িয়ায় আগেই একটি ফায়ার ব্রিগেড স্টেশন আছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক কালে আমতার গগন মোড়ে একটি বড় কাঠের গোলা বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল। মাস দুয়েক আগে জয়পুর থানার আগুনে পুড়ে চারজন অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গিয়েছিলেন। বছর খানেক আগে জয়পুর থানা এলাকার কয়েক হাজার একর মাঠের শুকনো খড় পুড়ে যায়। এই ধরনের ঘটনার বহু উদাহরণ রয়েছে। তবে এই সব ক্ষেত্রে উলুবেড়িয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। সমস্যা হলো, উলুবেড়িয়া দমকল কেন্দ্র থেকে ঘটনাস্থলে আসতে অনেকটা সময় লেগে যায়। ততক্ষণে যা ক্ষতি হওয়ার, তা এড়ানো সম্ভব হয় না।
যে জায়গায় এই ফায়ার সার্ভিস স্টেশন হচ্ছে, সেই আমতা গগনমোড় থেকে বাগনানের একাংশ, আমতা, জয়পুর, ভাটোরা পুলিশ ফাঁড়ি, উদয়নারায়নপুর, জগৎবল্লভপুর উলুবেড়িয়া ফায়ার ব্রিগেড স্টেশন থেকে দূরত্ব অনেকটাই কম। এই সব এলাকায় হাজার হাজার লোকের বসবাস। আমতা থেকে রানিহাটি রাজ্য সড়কের দু’দিকে বহু শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। জয়পুর–বাগনান রাস্তার পাশে একাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান হচ্ছে। উদয়নারায়ণপুরে একাধিক কোল্ড স্টোরেজ আছে। এই সব এলাকায় বহু ফ্ল্যাট কালচার গড়ে উঠেছে। নগরায়নের পথে চলেছে এইসব এলাকা। এইসব এলাকায় দুর্গাপুজো ও খালনার লক্ষ্মীপুজোর সময় অস্থায়ীভাবে দমকলকেন্দ্র করা হয়ে থাকে।
এই সব কারণে আমতায় দমকলকেন্দ্র দরকার বলে মনে করেন এলাকার ভূমিপুত্র তথা অবসরপ্রাপ্ত এগজ়িকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফটিক চক্রবর্তী। তিনি বলেন,‘ উলুবেড়িয়া মহকুমার মধ্যে আমতা একটি ব্লক। তবে এককালের বন্দরনগরী থেকে বর্তমানে যে ভাবে উন্নয়ন হচ্ছে, সেই কথা মাথায় রেখে, আমতায় পৃথক অতিরিক্ত দায়রা আদালত, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক, মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর খোলা হয়েছে। জনবসতি বাড়ছে, কলকারখানা হচ্ছে, এই সব কারণে, আমতায় একটি দমকলকেন্দ্র করা খুবই প্রয়োজন ছিল। আমতাকে নিয়ে যখন নতুন মহকুমা গড়ার পথ এগোচ্ছে, সেই সময়ে এই ধরনের দমকলকেন্দ্র বিশেষ তাৎপর্য বহন করবে।’
এই খবরে সন্তোষ প্রকাশ করেছে আমতার ‘সিটিজেন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি।’ বিধায়ক নির্মল মাজী বলেন, ‘হাওড়া জেলায় যতগুলো ফায়ার স্টেশন আছে, তার মধ্যে অনেক বেশি জায়গা নিয়ে আমতার ফায়ার সার্ভিস স্টেশন তৈরি হচ্ছে। আগামী দিনে যাতে অনেক বড় ফায়ার ব্রিগেড স্টেশন হতে পারে, সেই লক্ষ্যে আমরা এগোচ্ছি।’