এই সময়, কোচবিহার: নতুন ভোটার হতে আবেদন পড়েছিল ৩৫ হাজার। তার মধ্যে নাম উঠেছে ৬ হাজার ২০০ জনের। অর্থাৎ আবেদনকারীর সাত ভাগের এক ভাগের নাম উঠেছে। ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘সার’ (SIR) শুরু হওয়ার পরে বাতিল, ‘বিচারাধীন’ নিয়ে যত হইচই হয়েছে, তার সিকি ভাগও নতুন নাম তোলা নিয়ে হয়নি। কিন্তু কোচবিহারে দেখা গেল, নতুন নাম তুলতে আবেদনকারীদের সিংহভাগই নির্বাচন কমিশনের মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে পারলেন না। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
বছরে চারবার ভোটার তালিকায় (Voter list) নতুন নাম তোলা হয়। জানুয়ারি মাসে যাঁরা আবেদন করেন, তাঁদের নাম যুক্ত হয় এপ্রিল মাসে। গত বছরের অক্টোবর মাসে যে সমস্ত আবেদন জমা পড়েছিল, তাঁদের নাম জানুয়ারি মাসের তালিকায় ওঠার কথা ছিল। কিন্তু এ বার ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের জন্য তালিকা প্রকাশ হয়েছে ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ তারিখ। তালিকা প্রকাশের পরে দেখা যাচ্ছে, রাজার জেলায় নতুন ভোটার হিসেবে নাম তুলতে চাওয়া অধিকাংশ আবেদনকারীরই নাম ওঠেনি। ৩৫ হাজার আবেদনের মধ্যে ২৯ হাজারের নামই বাতিল হয়ে গিয়েছে। কী কারণে অধিকাংশ আবেদন বাতিল হলো, তা নিয়ে একাধিক কারণ শোনা যাচ্ছে।
আধিকারিকদের একাংশের বক্তব্য, এ বার ‘সার’ নিয়ে সকলেই ব্যস্ত ছিলেন। তার মধ্যে নতুন ভোটারদের আবেদনের কাগজপত্র সঠিক ভাবে খতিয়ে দেখা সম্ভব হয়নি। এর পাশাপাশি আরও একটি কারণও উঠে আসছে। ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে যাঁরা নতুন ভোটার হিসাবে আবেদন করেছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সে ভাবে সমস্যা হয়নি। কিন্তু যাঁদের বয়স একটু বেশি, ২৫–এর আশপাশে, কিন্তু এতদিন তালিকায় নাম তোলেননি। তাঁরা ফর্ম ৬ ফিলআপ করে জমা দিলেও অধিকাংশকেই বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। যদিও এ নিয়ে সরকারি ভাবে কেউ মুখ খোলেননি।
এ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের (Tmc) কোচবিহার জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক অভিযোগ করছেন, ‘একেবারে পরিকল্পনা করে তরুণ তরুণীদের বা নতুন ভোটারদের নাম আটকে দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের নাম তোলা হয়নি।’ বিজেপি (BJP) বিধায়ক নিখিলরঞ্জন দে বলছেন, ‘নির্বাচন কমিশন যাঁদের কাগজপত্র সঠিক পেয়েছে তাদের নাম নিশ্চয়ই তুলেছে। আর এখনও সুযোগ রয়েছে। প্রকৃত ভোটারের নাম না উঠলে তিনি আবার আবেদন করতে পারবেন। তৃণমূল রাজনীতি করার জন্য এই সমস্ত কথাবার্তা তুলছে।’