পরীক্ষা শেষের আগেই আসবে কেন্দ্রীয় বাহিনী, চিন্তায় বহু স্কুল
আনন্দবাজার | ০৫ মার্চ ২০২৬
এখনও শেষ হয়নি উচ্চ মাধ্যমিকের প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষা। আগামী এক মাসের মধ্যে শুরু হতে চলেছে প্রথম পর্যায়ক্রমিক পরীক্ষাও। তার আগে এখন থেকেই শহরের বেশ কিছু স্কুলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর থাকার বন্দোবস্ত করার তোড়জোড় চলছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনী স্কুলে থাকতে চলে এলে কী ভাবে উচ্চ মাধ্যমিকের প্র্যাক্টিক্যাল শেষ হবে, কী ভাবেই বা প্রথম পর্যায়ক্রমিক পরীক্ষা নেবে স্কুলগুলি— তা নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকেরা।
ওই প্রধান শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, ইতিমধ্যেই থানা থেকে তাঁদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কবে থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী স্কুলে থাকবে। শিয়ালদহ এলাকার টাকি গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা শম্পা চক্রবর্তী জানান, থানা থেকে জাননো হয়েছে, ১৫ মার্চের মধ্যে তাঁদের স্কুলে কেন্দ্রীয় বাহিনী চলে আসবে। শম্পা বলেন, ‘‘আমাদের মাথায় হাত পড়েছে। ১৫ মার্চের মধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী চলে এলে উচ্চ মাধ্যমিকের প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষা শেষ হবে তো? কোনও ভাবে যদি সেই পরীক্ষা শেষ করাও যায়, পয়লা এপ্রিল থেকে যে প্রথম পর্যায়ক্রমিক পরীক্ষা শুরু হবে, সেটা কী ভাবে নেব?’’ তিনি জানান, তাঁদের স্কুলে ছাত্রীর সংখ্যা অনেক। যে সব স্কুলে পড়ুয়া কম বা প্রায় নেই, এমন স্কুলে কেন কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তুলছেন শম্পা।
টাকি বয়েজ় স্কুলেও চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়েই এসে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রধান শিক্ষিকা স্বাগতা বসাক জানান, তিনি থানায় জানিয়েছেন, কোনও ভাবেই ১৮ মার্চের আগে যেন কেন্দ্রীয় বাহিনী স্কুলে না আসে। স্বাগতা বলেন, ‘‘১৮ মার্চের আগে কেন্দ্রীয় বাহিনী ঢুকলে উচ্চ মাধ্যমিকের প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষা শেষ করতে অসুবিধা হবে। বৈঠকখানা রোডে স্কুলের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস রয়েছে। সেখানে পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু পর্যায়ক্রমিক পরীক্ষা কী ভাবে হবে?’’
ব্রাহ্ম বালিকা শিক্ষালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রুবি সাহা চক্রবর্তী বলেন, ‘‘১০ মার্চ থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে বলে জেনেছি। আমাদের স্কুলে মেয়েদের হস্টেল রয়েছে। তা হলে হস্টেলের মেয়েদেরও ছুটি দিতে হবে। তাদের পড়াশোনা কী ভাবে হবে? দু’বেলা উচ্চ মাধ্যমিকের প্র্যাক্টিক্যাল নিয়ে পরীক্ষা শেষ করার পরিকল্পনা করছি। কিন্তু পরীক্ষার্থীদের পক্ষেও এক দিনে দু’বেলা প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষা দেওয়া খুব কঠিন।’’
যোধপুর পার্ক বয়েজ় স্কুলের প্রধান শিক্ষিক অমিত সেন মজুমদার জানান, আগামী ৮ মার্চ তাঁদের স্কুলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর আসার কথা। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের স্কুলে প্রথমে এক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। এক কোম্পানি পাঠালে তাঁদের স্কুলের দোতলায় কোনও ঘরে রেখে ক্লাস করা যাবে বলে ভাবা হচ্ছে। এখন থেকে স্কুল ছুটি হয়ে গেলে তো প্রথম পর্যায়ক্রমিকের পাঠ্যক্রমই শেষ হবে না। স্কুল বন্ধ করে অনলাইনে ক্লাস করলে সেখানে সব পড়ুয়া থাকে না। শিক্ষকদেরও একটি বা দু’টি ক্লাস নিতেই ডেটা শেষ হয়ে যায়। এখনও ভোটের দিন ঘোষণা হল না, অথচ স্কুলে কেন্দ্রীয় বাহিনী চলে এলে কী ভাবে পঠনপাঠন হবে?’’
নির্বাচন কমিশনের এক কর্তা অবশ্য বলছেন, ‘‘কেন্দ্রীয় বাহিনী কোথায় থাকবে, সেই সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে স্কুলেই রাখতে হবে, এমন কোনও নির্দেশ আমাদের তরফ থেকে নেই।’’