• ফের তিন জনের অপমৃত্যু, পরিবার দুষছে কমিশনকে
    আনন্দবাজার | ০৫ মার্চ ২০২৬
  • চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরে চার দিন পার। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘বাদ পড়া’ এবং ‘বিবেচনাধীনদের’ ক্ষোভ বেড়েই চলেছে। কমিশনকে দুষে আত্মহত্যা, আত্মহননের চেষ্টারঅভিযোগও উঠছে।

    মঙ্গলবার জলপাইগুড়ির নয়াবস্তির ‘বাদ পড়া’ গৌরাঙ্গ দে-র (৬২) ঝুলন্ত দেহ মিলেছিল শৌচাগারে। পরিবারের অভিযোগ, ২০০২ সালের তালিকায় নাম না থাকায় শুনানিতে নথি জমা দেন। তার পরেও নাম না ওঠায় আত্মহত্যা করেছেন। একই অভিযোগ তৃণমূলের। সে রাতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্তির ঘোলা নোয়াপাড়ার বাসিন্দা, ‘বিবেচনাধীন’ রফিক আলি গাজি (৪১)-এরও ঝুলন্ত দেহ মেলে ঘরে। তাঁর স্ত্রী আমিনা বিবি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ দায়ের করেন।

    আমিনা বলেন, ‘‘নামের বানান ভুল থাকায় ওঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। সব নথি জমা দেন। তার পরেও বিবেচনাধীনের তালিকায়নাম আসায় ভেঙে পড়েছিল। কমিশনের জন্যই এটা হল। বিচার চাই।’’ কমিশনকে দুষে বুধবার রফিকের দেহ নিয়ে উস্তি থেকে ঘোলার মোড় পর্যন্ত ধিক্কার-মিছিল করে তৃণমূল। দু’দফায় অবরোধও হয়। তৃণমূলের কো-অর্ডিনেটর শামিম আহমেদ বলেন, “বিজেপির চক্রান্তে কমিশন বৈধ ভোটারদেরও ‘বিবেচনাধীন‌’ বানিয়ে দিয়েছে। ওদের এই মৃত্যুর দায় নিতে হবে।” বিজেপি নেতা অশোক পুরকাইতের পাল্টা দাবি, “যে কোনও মৃত্যুকেই এসআইআর-আতঙ্কে মৃত্যু বলে চালানোর চেষ্টা করছে তৃণমূল।”

    তালিকা থেকে নাম বাদ (ডিলিটেড) যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের বাজারপাড়ার প্রিয়াঙ্কা চট্টোপাধ্যায় (৪৮)। বুধবার হৃদ্‌রোগে তাঁর মৃত্যুতেও কমিশনের দিকে আঙুল উঠেছে। মৃতের দাদা রাজেশ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “নাম বাদ যাওয়ায় বোন খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছিল। আতঙ্কে ভুগছিল। তাই মৃত্যু হল।” এ দিন সন্ধ্যায় কোচবিহার ২ ব্লকের মধুপুরে তালিকায় ‘বিবেচনাধীন’ থাকা এক জন আগাছানাশক পান করে চেষ্টা করার পরেও অভিযোগের আঙুল ওঠে কমিশনের দিকে।

    কমিশন সূত্রের বক্তব্য, বার বার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাঁরা বাদ পড়ছেন, তাঁদের মধ্যে কারও ন্যায্য দাবি থাকলে, তিনি ফর্ম-৬ দাখিল করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদন করতে পারেন উপযুক্ত প্রমাণ-সহ। কিন্তু সে কথায় অনেকে ভরসা করতে পারছেন না। উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গার রানিহাটি গ্রামে ৬০০ জন ‘বিবেচনাধীন’ এ দিন অবরোধ করেন।মালদহের বৈষ্ণবনগর বিধানসভার ২৬২টি বুথের বিএলও কমিশনের দিকে আঙুল তুলে গণইস্তফা দিতে চেয়ে বিডিও-র কাছে দরবার করেন। বিডিও ইস্তফাপত্র নিতে রাজি না হওয়ায় ওই কাজ থেকে অব্যাহতি চেয়ে তাঁরা স্মারকলিপি দেন। হুগলির বলাগড়ে অনেকের নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে এ দিন প্রায় আট ঘণ্টা অনশন করেন এক ব্যক্তি।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)