প্রার্থী পাল্টানো নাকি প্রচারে খামতি, রানিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে গত বিধানসভা ভোটে হারের কারণ নিয়ে এখনও নানা মত সিপিএমের নেতা-কর্মীদের। ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে রাজ্যে তৃণমূলের আধিপত্যের মধ্যেও এই কেন্দ্র পুনর্দখল করেছিল সিপিএম। পাঁচ বছর পরে সেটি শুধু হাতছাড়া নয়, তিন নম্বরে স্থান হয় দলের প্রার্থীর। তবে দলের নেতাদের দাবি, তার পরে পুরভোট ও পঞ্চায়েত ভোটের ফল থেকে স্পষ্ট, রানিগঞ্জে তাঁরাই প্রধান বিরোধী দল। আসন্ন বিধানসভা ভোটে কেন্দ্রটি আবার নিজেদের দখলে আনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলেও জানাচ্ছেন তাঁরা।
১৯৬৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত রানিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র সিপিএমের দখলে ছিল। ২০১১ সালে এই কেন্দ্রে ৪৪ বছরে প্রথম তারা তৃণমূলের কাছে হেরে যায়। আবার ২০১৬ সালে এখানে জেতে তারা। ২০২১ সালে আবার জয়ী হয় তৃণমূল। এ বার সিপিএমকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে বিজেপি।
রানিগঞ্জ পুরসভা এলাকা এবং অন্ডাল ব্লকের আটটি পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত এই কেন্দ্রটি। ২০১৬ সালে জয়ী রুনু দত্তকে ২০২১ সালে আর এখানে প্রার্থী করেনি সিপিএম। দলের কর্মীদের একাংশের দাবি, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বলে পরিচিত, পূর্বতন রানিগঞ্জের পুরপ্রধান রুনুকে প্রার্থী না করার প্রভাব পড়েছিল এই ভোটে। আর এক অংশের আবার দাবি, রানিগঞ্জ খনি অঞ্চলে শ্রমিক সংগঠনে বামেদের ভাল প্রভাব ছিল। কিন্তু প্রায় এক দশক ধরে রানিগঞ্জে দলের শ্রমিক নেতারা সে ভাবে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে পারেননি। সে কারণে শ্রমজীবী মানুষের একাংশ তাঁদের ছেড়ে গিয়েছেন। আবার একাংশের মতে, ২০২১ সালে হেমন্ত প্রভাকরকে প্রার্থী করে দলে নতুন মুখ তৈরির চেষ্টা হলেও, তাঁদের প্রচারে সামনের সারিতে আনা হয়নি। প্রবীণ নেতৃত্বের উপরে ভরসা রাখতে গিয়েই বিপাকে পড়তে হয়েছে।
সিপিএম সূত্রের যদিও দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে এখানে তারা তৃতীয় হলেও, ২০২২ সালের পুরভোটে এলাকার ১১টি ওয়ার্ডের মধ্যে তৃণমূল ১০টা এবং তারা একটি ওয়ার্ডে জেতে। আর একটি ওয়ার্ডে তারা মাত্র ছয় ভোটে হেরে যায়। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটে বিজেপি অন্ডালের ৮টি পঞ্চায়েতে মাত্র দু’টি আসনে জিতেছে। সেখানে পঞ্চায়েত স্তরে সিপিএম আটটি আসনে জিতেছে। খান্দরা পঞ্চায়েতে সিপিএমের তিন জয়ী পঞ্চায়েত সদস্যের সমর্থন নিয়ে তৃণমূলের এক গোষ্ঠীর নেতা এক বছরের বেশি উপপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই সিপিএম নেতাদের দাবি, ২০২১ বিধানসভা ভোটে তাঁরা পিছিয়ে গেলেও, তার পরে এলাকায় তাঁরাই প্রধান বিরোধী দলে পরিণত হয়েছেন।
সিপিএমের রানিগঞ্জ এরিয়া কমিটির সম্পাদক সুপ্রিয় রায় বলেন, ‘‘২০২১ সালে প্রচারে ঘাটতি ছিল বলেই দল হেরেছে, এমনটাই আমাদের মত। জনসংযোগ বাড়িয়ে শ্রমজীবী মানুষের বিভিন্ন আন্দোলনে জোর দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি শিল্প ধর্মঘটে রানিগঞ্জে ভাল সাড়া পাওয়াগিয়েছে। এর থেকে স্পষ্ট, এ বার আমাদের জয় নিশ্চিত।’’
তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ভি শিবদাসনের পাল্টা দাবি, ‘‘এই কেন্দ্রে সিপিএম এবং বিজেপির এক জনের ভোট কমলে, অন্যের ভোট বেড়ে যায়। তাই ওদেরআঁতাঁত স্পষ্ট। তবে এ বারও তাতে কাজ হবে না।’’ বিজেপির রানিগঞ্জ শহর মণ্ডল সভাপতি সমশের সিংহের আবার দাবি, ‘‘শুধু রানিগঞ্জ নয়, সারা রাজ্যের মানুষই তৃণমূল এবং সিপিএমের গোপন সম্পর্কের কথা বুঝে গিয়েছেন। তাই এ বার মানুষ বিজেপিকেই চাইছে।’’