এই সময়: প্রথমে ঠিক ছিল, ৯ মার্চ, সোমবার বাংলায় আসবে দেশের নির্বাচন কমিশনের ফুলবেঞ্চ। তার বদলে আগামী রবিবার, ৮ মার্চ রাতেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন ফুলবেঞ্চ রাজ্যে চলে আসবে বলে বুধবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দপ্তর সূত্রের খবর। আগামী সোম ও মঙ্গলবার কমিশনের আধিকারিকরা রাজ্যে থাকবেন।
বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করার কথা ফুলবেঞ্চের। তার পরেই মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গ–সহ পাঁচটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশিত হতে পারে। যদিও ভোট ঘোষণার নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
ইতিমধ্যে রাজ্যে প্রথম দফায় ২৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী চলে এসেছে। কলকাতা, লাগোয়া শহরতলির পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তারা টহলদারিও শুরু করেছে। জেলাগুলিতে ভোট প্রস্তুতি কী পর্যায়ে রয়েছে, তা নিয়ে আজ, বৃহস্পতিবার রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল বিভিন্ন জেলার জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (ডিইও) নিয়ে একটি বৈঠক করবেন বলে জানা গিয়েছে।
ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের আগে এখন সব মহলের নজর রয়েছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ‘আন্ডার অ্যাজুডিকেশন’ বা ‘বিচারাধীন’ থাকা ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের মধ্যে কত জনের শেষ পর্যন্ত ভোটাধিকার থাকবে। কমিশনের একটি সূত্রের দাবি, বিচারক বা জুডিশিয়াল অফিসাররা ‘বিচারাধীন’ ভোটারদের নথির স্ক্রুটিনির যে কাজ শুরু করেছিলেন, তার মধ্যে চার লক্ষের মতো নথির এখনও নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে তার মধ্যে কত জনের নথি চূড়ান্ত হলো বা কত জনের খারিজ হয়েছে, তা এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। ফলে এই ভোটারদের একটা বড় অংশ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বলে অভিযোগ রাজ্যের শাসকদলের।
‘আন্ডার অ্যাজুডিকেশন’ ভোটারদের নথি চূড়ান্ত হলে তাঁরা যাতে বুঝতে পারেন, সে জন্য সিইও দপ্তরের ওয়েবসাইটে একটি নতুন বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। এই ভোটাররা তাঁদের এপিক নম্বর ও নাম দিয়ে সার্চ করলে এখন তাঁদের নামের তলায় ‘আন্ডার অ্যাজুডিকেশন’ শব্দটি দেখাচ্ছে। বিচারকরা নথির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করলে সংশ্লিষ্ট ভোটারের নামের তলা থেকে ‘আন্ডার অ্যাজুডিকেশন’ শব্দটি সরে যাবে।
কমিশন সূত্রের খবর, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে বিচারকরা নথির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করার সঙ্গে সঙ্গে ধাপে ধাপে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার লিস্ট প্রকাশিত হবে। সময় বেঁধে যাতে এই ৬০ লক্ষ ভোটারের নথি যাচাই চূড়ান্ত করা যায়, তা নিশ্চিত করতে আজ–কালের মধ্যেই পড়শি ঝাড়খণ্ড ও ওডিশা থেকে একশো জন করে মোট দু’শো জন বিচারককে কাজে নিয়োগ করা হতে পারে।