গত শনিবার ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। তার পরে ৬দিন কেটে গিয়েছে। অবশেষে বৃহস্পতিবার খামেয়েনেইয়ের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করল ভারত। এর মধ্যে ইরানে আমেরিকা-ইজ়রায়েলের হামলা এবং খামেনেইকে হত্যার বিষয়ে নয়াদিল্লির চুপ থাকা নিয়ে বিস্তর সমালোচনা করেছে কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা। দেরিতে হলেও আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে নয়াদিল্লির এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
এ দিন ভারত খামেনেইয়ের মৃত্যুতে ভারত সরকারের তরফে সমবেদনা জানাতে নয়াদিল্লির ইরানি দূতাবাসে পৌঁছন বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি। ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি সেখানে রাখা বিশেষ শোকবইয়ে (Condolence Book) স্বাক্ষর করেন। ভারত সরকারের তরফে এই কঠিন সময়ে ইরানের সাধারণ মানুষের পাশে থাকার জোরালো বার্তাও দিয়েছেন তিনি বলে সূত্রের খবর।
শোকবইয়ে স্বাক্ষরের পাশাপাশি ভারতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতের বিদেশসচিব। এই সাক্ষাতে তিনি আনুষ্ঠানিক ভাবে ভারতের শোকবার্তা তাঁর হাতে তুলে দেন। কূটনৈতিক মহলের মতে, পশ্চিম এশিয়ার এই উত্তপ্ত আবহেও ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে ভারত যে আগ্রহী সেটাই এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে সেটাই বোঝাতে চাইল নয়াদিল্লি।
ভারত ও ইরানের মধ্যে কৌশলগত ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। খামেনেই বিভিন্ন সময়ে কাশ্মীর ইস্যু বা দিল্লি হিংসা নিয়ে ভারত বিরোধী মন্তব্য করেছেন। তবে তাঁর সময়েই চাবাহার বন্দর চুক্তি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তেহরান-নয়াদিল্লি ঘনিষ্ঠতা আরও বেড়েছে। শুধু তাই নয়, তিনি শিয়া ধর্মের সর্বোচ্চ ধর্মগুরুও বটে।
তাই খামেনেইয়ের মতো ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে সরকারের সর্বোচ্চ স্তর থেকে আরও আগেই শোকপ্রকাশ করা এবং আমেরিকা-ইজ়রায়েলের হামলার নিন্দা করা উচিত ছিল বলে মনে করে কংগ্রেস-সহ অধিকাংশ বিরোধী দল। এর আগে ইরানি দূতাবাসের পক্ষ খেকেও এই বিষয়ে মুখ খোলার আহ্বান জানানো হয়েছিল ভারত সরকারকে। শীর্ষ নেতার প্রয়াণে ভারতের এই দ্রুত শোকপ্রকাশ দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত আগামী দিনে আরও মজবুত করবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।