• পুকুরের তলায় কি বৌদ্ধ স্থাপত্যের ধ্বংসাবশেষ? চাঞ্চল্য বালুরঘাটে
    এই সময় | ০৫ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়, বালুরঘাট: প্রচণ্ড খরার মরশুমেও জল কখনও শুকোয়নি। তাই পুকুরের তলায় কী রয়েছে, তা এতদিন জানা যায়নি। কিন্তু সম্প্রতি পুকুরের পাড় বাঁধাতে পুরো জল তুলে নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। সেইমতো পাম্প চালিয়ে সব জল তুলে ফেলায় চক্ষু চড়কগাছ! পুকুরের তলদেশে স্পষ্ট দেখা যায় ইটের প্রশস্ত সিঁড়ি। যা খালি চোখে দেখলে প্রাচীন কালের (Ancient Times) বলেই অনুমান। দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট (Balurghat) শহর সংলগ্ন নাজিরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কিসমত যশাহার এলাকায় দালান পুকুর ঘিরে এখন এলাকায় চরম কৌতূহল। জল্পনা চলছে, পুকুরের তলায় কি লুকিয়ে রয়েছে কোনও মন্দির বা বৌদ্ধ স্থাপত্যের (Buddhist Architecture) ধ্বংসাবশেষ? পুকুরটি কত পুরোনো, তা বলতে পারছেন না এলাকার কেউই। তাঁদের বক্তব্য, জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই এই পুকুরটা দেখছি।

    প্রায় ন'বিঘা জমির উপরে বিস্তৃত এই পুকুরটির পৈতৃক সূত্রে বর্তমান মালিক বাপি মাহাত। তিনিও পুকুরের ইতিহাস নিয়ে অন্ধকারে। বাপি জানান, অতীতে বহুবার খরা দেখা দিয়েছে। কিন্তু পুকুরের জল শুকোয়নি। সম্প্রতি পাড় বাঁধানোর জন্য পাম্পসেট বসিয়ে জল বের করতেই দু'টি সিঁড়ির অস্তিত্ব প্রকাশ্যে আসে। সিঁড়িতে যে ধরনের ইট ব্যবহার করা হয়েছে, তা এখন দেখা যায় না। এলাকার বাসিন্দা গোবিন্দ পাল ও দীপা বিশ্বকর্মা বলেন, 'এত চওড়া সিঁড়ি সাধারণ পুকুরে হয় না। মনে হচ্ছে মাঝখানে কোনও স্থাপত্য লুকিয়ে আছে।' তাঁদের দাবি, প্রশাসন দ্রুত এই জায়গা খননের ব্যবস্থা করুক। কারণ, এটি কেবল একটি পুকুর নয়, সম্ভবত ইতিহাসের স্তর চাপা পড়ে রয়েছে এর তলায়। পুকুরপাড়ে অবস্থিত গলাকাটা প্রাচীন কালী মূর্তিকে ঘিরেও রয়েছে নানা অলৌকিক কাহিনি।

    স্থানীয়দের বিশ্বাস, পুকুরটির সঙ্গে সেই মূর্তির নিবিড় যোগ রয়েছে। আগে কেউ সহজে জলে নামতেন না। যদিও এখন পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে বলে জানিয়েছেন পুকুর মালিক। ইতিহাসবিদ সমিত ঘোষ, অজিত ঘোষ বলেন, 'দিনাজপুর জেলা আদতে পুরাতত্ত্বের আঁতুড়ঘর। টেরাকোটার মন্দির, প্রাচীন স্থাপত্য ও মূর্তির নিদর্শন এ জেলায় আগেও মিলেছে। নাজিরপুর-যশাহার অঞ্চল প্রাচীন বৌদ্ধবিহারের জন্য পরিচিত। এই সিঁড়ি সেই সময়কার কোনও স্থাপত্যের অংশও হতে পারে। তবে নিশ্চিত হতে গেলে পশ্চিমবঙ্গ হেরিটেজ কমিশন বা ভারতীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগের উদ্যোগে বৈজ্ঞানিক খনন জরুরি।' বালুঘাটের বিডিও সোহম চৌধুরী বলেন, 'বিষয়টি জানতাম না। খোঁজ নিয়ে দেখছি। যদি সত্যিই এখানে ইতিহাস লুকোনো থাকে, তা হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

  • Link to this news (এই সময়)