• রংয়ের উৎসবে ঘুচল দূরত্ব, গৌতম-শঙ্কর আবির দিলেন একে অন্যকে
    এই সময় | ০৫ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়িতে (Siliguri) রংয়ের উৎসবে বেশ কয়েকটি জায়গায় অশান্তি হলো। এরই পাশাপাশি দেখা গেল রাজনৈতিক সৌজন্যও। দোল উৎসব (Holi Festival) উদযাপনে ছেলেকে নিয়ে স্থানীয় এক মাঠে পৌঁছন শিলিগুড়ি বিজেপি (Bjp) বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। আগে থেকে সেখানে উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। সেখানে দুই নেতাকে একে অপরকে আবির মাখাতে দেখা যায়। শঙ্করের ছেলে সহজকে দেখা যায় গৌতমের পায়ে আবির দিয়ে আশীর্বাদ নিতে। দোল ও হোলি দু'দিনই একাধিক গন্ডগোলের খবর সামনে এসেছে শিলিগুড়িতে। মঙ্গলবার দুপুরে সূর্যনগর মাঠে একদল যুবক মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন।

    দোল উপলক্ষে আশপাশের অনেকেই রং খেলতে মাঠে এসেছিলেন। শিশু-মহিলা, বয়স্করা সেই সময়ে উপস্থিত ছিলেন মাঠে। হঠাৎই জনা পঁচিশ যুবক নিজেদের মধ্যে মারামারি শুরু করেন। আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে মাঠ ছাড়েন অনেকেই। তিন্নি বোস নামে এক তরুণী মেয়েকে নিয়ে রং খেলতে মাঠে এসেছিলেন। গন্ডগোল শুরু হতেই বাড়ির পথ ধরেন। তিনি বলেন, 'এই মাঠে সারা বছর বহিরাগত কিছু ছেলেদের গন্ডগোল চলতে থাকে। এ দিনও বাইরে থেকে শতাধিক মোটরবাইক মাঠে আসে। অনেকেই মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। মহিলাদের কটুক্তি, গালাগালি কোনওটাই বাদ দিচ্ছিল না তারা।' দোলের বিকেলে দাগাপুরের একটি মাঠে ব্যাট-উইকেট, লাঠি নিয়ে সংঘর্ষ জড়িয়ে পড়ে দু'পক্ষ। পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের সন্তোষনগরে ডিজে বাজিয়ে রাতে নাচানাচি করছিলেন অনেকে। সেখানে দু'পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর ঘটানো হয়। পাঁচ জন আহত হন। স্থানীয় সূত্রে খবর, পুরনো বিবাদের জেরেই দু'পক্ষের মধ্যে মারামারি ঘটে। এই ঘটনায় চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে খালপাড়া ফাঁড়ির পুলিশ।

    পুলিশ জানিয়েছে, দুই পক্ষই একে অপরের আত্মীয়। কয়েক মাস আগে তাঁদের মধ্যে মারামারি হয়েছিল। এছাড়াও সোমবার রাতে সেবক রোডের একটি শপিং মলের গ্রাউন্ড ফ্লোরে পার্কিংয়ের জায়গায় কয়েক জনের মধ্যে বেধড়ক মারামারি হয়। গন্ডগোল হয় বুধবারও। এনজেপি, ইস্টার্ন বাইপাস, প্রধাননগর, টিকিয়াপাড়া-সহ বিভিন্ন এলাকায় গন্ডগোল, মারামারি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। একাধিক জায়গা থেকে গন্ডগোলের খবর আসতে থাকায় বুধবার সকাল থেকে সক্রিয় হয়ে ওঠে পুলিশ। শিলিগুড়ি পুলিশ (Siliguri Police) কমিশনারেটের ডিসিপি (ট্র্যাফিক) কাজি শামসুদ্দিন আহমেদ সদলবলে শহরে টহলদারিতে বের হন। বেপরোয়া মোটরবাইক চালকদের সচেতন করেন ডিসিপি। বিভিন্ন ট্র্যাফিক পয়েন্টে মদ্যপ গাড়িচালকদের ধরপাকড় করা হয়। ডিসিপি বলেন, 'বেপরোয়া যানবাহন আটকাতে এবং দুর্ঘটনা এড়াতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।' পাশাপাশি বিভিন্ন থানা এলাকায় ঝামেলা পাকানোর অভিযোগে ৫০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

  • Link to this news (এই সময়)