গ্রামের একদল যুবক কাঁধে করে মৃতদেহ নিয়ে যাচ্ছে। বরং বলা ভালো, এক জ্যান্ত মানুষকে মৃতদেহ সাজিয়ে কাঁধে করে গ্রাম ঘোরানো হচ্ছে। দোলের পরের দিন এমনই এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখা গেল বীরভূমের রায়পুরে। বহু পুরোনো এই প্রথার নাম ‘ধুলুরী’। বুধবার সিউড়ি ১ নম্বর ব্লকের রায়পুর গ্রামে ঘটা করে পালিত হয়েছে প্রাচীন এই রীতি। গ্রামের মানুষের বিশ্বাস, এই উৎসব পালন করলে গ্রাম সব বিপদ থেকে রক্ষা পায়। ছোট থেকে বড়—সবাই মিলে এ দিন মেতে ওঠেন উৎসবের আনন্দে।
এই উৎসবের জন্য প্রথমে শ্মশান থেকে বাঁশ ও অন্যান্য সামগ্রী আনা হয়। সেই বাঁশ দিয়ে একটি খাট তৈরি করা হয়। এর পর গ্রামেরই একজনকে ‘ডেডবডি’ সাজিয়ে ওই বাঁশের তৈরি খাটে শুইয়ে দেওয়া হয়। তার পর ঢাক-ঢোল বাজিয়ে তাঁকে কাঁধে করে সারা গ্রাম ঘোরানো হয়। সঙ্গে চলে দেদার আবির খেলা। দৃশ্যটি দেখে অবাক হলেও, গ্রামের মানুষের কাছে এটি খুবই পবিত্র এক নিয়ম।
গ্রামবাসীদের দাবি, বহুকাল আগে গ্রামে খুব রোগবালাই হতো। কলেরা ও বসন্তের হাত থেকে বাঁচতে পূর্বপুরুষরা এই প্রথা শুরু করেন। তাঁদের বিশ্বাস, মা কালী ও মা মনসার আশীর্বাদে এই নিয়ম চালু হয়েছে। এক বছর এই অনুষ্ঠান না হওয়ায় গ্রামে বসন্ত রোগ ছড়িয়ে পড়েছিল—এমন কথাও প্রচলিত রয়েছে গ্রামবাসীদের মধ্যে।
সেই কারণেই ভয় আর ভক্তি থেকে আজও এই প্রথা অমলিন বীরভূমের এই গ্রামে। তবে ঠিক কবে বা কী ভাবে এই রীতির প্রচলন হয়েছিল, তার নির্দিষ্ট ইতিহাস কেউ বলতে না পারলেও, প্রজন্মের পরে প্রজন্ম ধরে এই প্রথা আজও সমান উৎসাহে পালন করে চলেছেন রায়পুর গ্রামের মানুষ। বিজ্ঞান ও আধুনিকতার যুগেও রায়পুরের বাসিন্দারা তাঁদের এই পুরোনো ঐতিহ্য আগলে রেখেছেন।