চাঁঁদকুমার বড়াল, কোচবিহার
দিনহাটা, সিতাই ও শীতলখুচি। কোচবিহারের (Cooch Behar) এই তিন সীমান্ত লাগোয়া (Near The Border Area) বিধানসভায় বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। একই ভাবে বেশি বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যাও। তৃণমূলের (TMC) মতে, এটা পরিকল্পিত। বিজেপি অভিযোগ খারিজ করেছে। তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নোটিস পাঠানো কিংবা অ্যাজুডিকেশন। সব ক্ষেত্রেই কোচবিহার জেলার বাকি অংশের তুলনায় কয়েক ধাপ এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ সীমান্ত ছুঁয়ে থাকা এই তিনটি বিধানসভা কেন্দ্র। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, কোচবিহারের ন'টি বিধানসভা মিলিয়ে 'বিচারাধীন' ভোটারের সংখ্যা ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ১০৭ জন। এর অধিকাংশই দিনহাটা, সিতাই ও শীতলখুচিতে। হিসেব অনুযায়ী, দিনহাটা বিধানসভায় ২৩৫ হাজার ৯৩২ জন, সিতাইয়ে ৩৬ হাজার ৪০৫ জন এবং শীতলখুচিতে ৩১ হাজার ২০১ জন ভোটারের নাম 'অ্যাজুডিকেশন' বা 'বিচারাধীন' তালিকায় রয়েছে। অর্থাৎ জেলার মোট ২ লক্ষ ৩৮ হাজার বিচারাধীন ভোটারের মধ্যে ১ লক্ষ ৩ হাজার ৫৪৮ জন এই তিন বিধানসভার বাসিন্দা।
জেলায় মৃত, নিখোঁজ, স্থানান্তরিত বা ডুপ্লিকেট ভোটার হিসেবে ইতিমধ্যেই ১ লক্ষ ১৩ হাজারের বেশি আনুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও শীর্ষে রয়েছে এই তিন কেন্দ্র। এখান থেকে মোট ৪৫ হাজার ৯৩৪ জনের নাম বাদ পড়েছে। এ ছাড়া জেলার যে ৬৭ হাজার ভোটারকে 'আনম্যাপড' তালিকায় রাখা হয়েছিল। এই মাপকাঠিতেও 'ফার্স্ট বয়' এই তিন বিধানসভা। লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি বা যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতির জন্য সিতাই বিধানসভার ৫৪ হাজারেরও বেশি ভোটারের কাছে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। একই ভাবে দিনহাটা ও শীতলখুচি বিধানসভা এলাকাতেও গড়ে ৫৪ হাজার ভোটারের কাছে এই নোটিস পৌঁছয়। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী ও দিনহাটার বিধায়ক উদয়ন গুহ সরাসরি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন।
তিনি বলেন, 'বুথ ধরে ধরে পরিকল্পিত ভাবে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। যেখানে একই বুথে এক সম্প্রদায়ের মানুষের নাম রাখা হয়েছে, অথচ অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের নাম অ্যাজুডিকেশনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকী পূর্বতন ছিটমহলের বাসিন্দাদেরও এই অ্যাজুডিকেশন প্রক্রিয়ার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। এর পিছনে এক সুগভীর পরিকল্পনা কাজ করছে।' তৃণমূলের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপির কোচবিহার জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মন। তাঁর বক্তব্য, 'উদয়ন গুহ বা তৃণমূলের যদি কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রশ্ন থাকে, তবে তাঁদের উচিত সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়া। সংবাদমাধ্যমের সামনে এ ধরনের মন্তব্য করে কোনও লাভহবে না। সাধারণ মানুষ সবটাই বুঝতে পারছেন।'