এই সময়, পুরুলিয়া: ভোট আসে, ভোট যায় (Election)। সমস্যার আর সমাধান হয় না পুরুলিয়ার দু’টি পৃথক এলাকার মানুষের। তাই নির্বাচনের দিন ঘোষণার আগেই ভোট বয়কটের সিদ্ধান্ত নিলেন বাসিন্দারা। কথায় বলে, প্রদীপের নীচেই থাকে অন্ধকার। পুরুলিয়া শহরের (Purulia News) সিটি সেন্টার থেকে মাত্র আধ কিলোমিটার দূরে শান্তিপল্লি। শহর লাগোয়া হলেও পুরুলিয়া–কোটশিলা রেললাইন (Purulia-Kotshila Railway line) মাঝখান দিয়ে যাওয়ার কারণে জায়গাটি বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে। লাইনের এক পাশে পুরুলিয়া পুরসভার (Purulia Municipality) ২১ নম্বর ওয়ার্ড। অন্য দিকে পুরুলিয়া–২ ব্লকের রাঘবপুর পঞ্চায়েতের অন্তর্গত এই শান্তিপল্লি।
স্থানীয়দের দাবি, এই এলাকা এখন শহরতলির আকার নিয়েছে। অন্তত ১০ হাজার মানুষের বসবাস। তবুও তাঁরা ন্যূনতম নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্য পাচ্ছেন না। শান্তিপল্লির বাসিন্দা ঝুমা বন্দ্যোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, তাঁদের এলাকায় ঢোকার জন্য এখনও কোনও রাস্তা তৈরি হয়নি। সম্প্রতি রেললাইন ডবল হয়েছে। তাতে সমস্যা আরও বেড়েছে। আগে যেখানে রাস্তা ছিল, সেখানেই বসেছে রেললাইন। রেলের তরফ থেকে রাস্তা করার জন্য জায়গা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু রাস্তা তৈরি করে দেওয়া হয়নি। ফলে যাতায়াত করতে নাজেহাল হচ্ছেন তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে এ বার ভোট না–দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। এলাকার প্রবীণ নাগরিক তথা শিক্ষক শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘৩০ বছর আগে তৈরি হয়েছিল এই জনপদ। এখনও না–আছে রাস্তা, না–আছে জলের ব্যবস্থা। রাতে আলো পর্যন্ত নেই। স্থানীয়রা টাকা দিয়ে উন্নয়নের কাজ করছেন। এই পরিস্থিতিতে শুধু ভোট দেওয়ার কী অর্থ থাকতে পারে!’ পেশায় শিক্ষক মহসিন খান বলেন, ‘চাঁদা তুলে এলাকায় লাগানো হয়েছে বিদ্যুতের আলো। চাঁদা তুলেই হচ্ছে রাস্তা।’
মানুষের ক্ষোভের কথা স্বীকার করে বিজেপি (BJP) পরিচালিত রাঘবপুর পঞ্চায়েতের উপ প্রধান অমিত অধিকারীর মন্তব্য, ‘ওখানে গত দু’বছর ধরে ভয়ঙ্কর ভোগান্তি হচ্ছে মানুষের। ওখানে একটি মাত্র রাস্তার কাজ করা সম্ভব হয়েছে। তার পরে আর কিছু করা যায়নি। কারণ পঞ্চায়েত থেকে জেলা পরিষদ, সবই তৃণমূলের।’ জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা বান্দোয়ানের বিধায়ক রাজীবলোচন সরেনের বক্তব্য, ‘কোথাও কোনও ক্ষোভ থাকলে খতিয়ে দেখা হবে।’ এ দিকে, জল ও রাস্তার দাবিতে ভোট বয়কটের ডাক দিলেন পুরুলিয়ার মানবাজার–১ ব্লকের বারমেস্যার গ্রামবাসীরা। গ্রামে ঢোকার মুখে কাগজের বোর্ডে ‘ভোট বয়কট’ লিখে টাঙ্গিয়ে রেখেছেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, গ্রামের সমস্যা সমাধান না হলে ‘নো ভোট’। গত পঞ্চায়েত ভোটের আগেও এই ধরনের পোস্টার লাগানো হয়েছিল আদিবাসী প্রধান এই গ্রামে। গ্রামের বাসিন্দা সুধন কিস্কু বলেন, ‘পানীয় জলের চরম সমস্যা রয়েছে। তাই আমরা ভোট বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ গ্রামের মহিলা অঞ্জনা টুডু, জবা মুর্মুরা বলেন, ‘গ্রামে রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ। বর্ষাকালে চলাচল করা দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে। বেশি সমস্যায় পড়েন গর্ভবতীরা।’
এলাকার তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, গ্রামের সবাই নয়, একটি অংশ ভোট বয়কটের কথা বলছেন। ওই এলাকার বেশ কিছু অংশে রাস্তা হয়নি, সেখানের মানুষজন এই ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছেন। এ নিয়ে আলোচনা চলছে। মানবাজার–১ ব্লকের বিডিও দেবাশিস ধরের বক্তব্য, ‘ওখানে রাস্তা রয়েছে, কিছু অংশে হয়তো কাজ হয়নি। জলের সমস্যার কথা শুনেছি। গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলা হবে।’