ঘাড়, পিঠ, কোমরে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। ওই অবস্থাতেই রাস্তা দিয়ে দৌড়চ্ছেন সপ্তর্ষি পাটোয়ারি (১৯) নামে এক যুবক। বুধবার দুপুরে কোচবিহারের (Cooch Behar) মাথাভাঙার উনিশবিশা গ্রামের এই দৃশ্য দেখে চমকে গিয়েছেন সবাই। গুরুতর জখম অবস্থায় সপ্তর্ষিকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, কয়েক জন পরিচিত যুবক সপ্তর্ষিকে বাড়ি থেকে টেনে নিয়ে এসে তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় (Set youth On Fire) বলে অভিযোগ। তবে আগুন ধরানোর কারণ জানা যায়নি এখনও। ঘটনার পরেই অভিযুক্ত পাঁচ যুবককে গ্রেপ্তার (Five Accused Arrest) করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, হোলির দিন বাড়িতেই ছিলেন সপ্তর্ষি। সামনে জয়েন্টের পরীক্ষা। তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন। হোলি খেলতে আর যাননি। দুপুরের দিকে পাঁচ যুবক তাঁকে ডাকতে আসে। তাঁদের সঙ্গে বেরিয়ে যান সপ্তর্ষি। অভিযোগ, বাড়ির গেটের কাছে গ্রিস জাতীয় কিছু তাঁর শরীরে স্প্রে করেন তাঁরা। তার পরেই দেশলাই জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন।
দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে সপ্তর্ষির দুই হাত, পিঠ। যন্ত্রণায় চিৎকার করতে করতে দৌড়তে শুরু করেন তিনি। সপ্তর্ষিকে ওই অবস্থায় দেখে ছুটে আসেন আশপাশের লোকজন। তাঁরাই কোনও রকমে আগুন নেভান। সপ্তর্ষির শরীরের পিছনের অংশ সম্পূর্ণ ঝলসে গিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ঘোকসাডাঙা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শেষে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় সপ্তর্ষিকে। আপাতত সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।
সপ্তর্ষির আগে আগুন ধরিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন পাঁচ যুবক। কিন্তু পারেননি। গ্রামবাসীরাই তাঁদের ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। ঘটনার পরেই ওই যুবকদের বিরুদ্ধে ঘোকসাডাঙা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সপ্তর্ষির কাকা স্বরাজ পাটোয়ারি। তাঁর অভিযোগ, ‘ভাইপোকে প্রাণে মারার চেষ্টা হয়েছিল।’ কিন্তু কেন এমন হামলা হলো বুঝতে পারছেন না সপ্তর্ষির দিদি অলিভিয়া পাটোয়ারি। তিনি বলেন, ‘কেন ভাইয়ের গায়ে আগুন ধরিয়ে দিল জানি না। শুধু চাই, ওদের শাস্তি হোক।’
অভিযুক্তরা যুকের পূর্ব পরিচিত বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঘোকসাডাঙা থানার এক পুলিশ আধিকারিক। তবে আগেও ওই যুবকের উপরে হামলা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে সেই বার থানায় কোনও অভিযোগ জানাননি সপ্তর্ষির পরিবারের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার অভিযুক্তদের মাথাভাঙা আদালতে তোলা হলে ধৃত পাঁচ জনকেই জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।