এই সময়, কৃষ্ণনগর: একমাত্র ছেলে মানসিক ভারসাম্যহীন। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (Final Voter list) থেকে তাঁর নাম বাদ পড়েছে। আবার নিজের নামের পাশেও 'ডিলিটেড' (Deleted) লেখা। শেষপর্যন্ত কি হবে ভেবে আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন পরিবার কর্তা। হাসপাতালে ভর্তি করার ৩০ ঘন্টার মধ্যে সেই ব্যক্তির মৃত্যু হলে পরিবারের লোকজন দাবি তুলেছেন এসআইআর আতঙ্কেই মৃত্যু হয়েছে। নদিয়ার রানাঘাট ১ নম্বর ব্লকের হবিবপুর পঞ্চায়েতের কলাইঘাটা গ্রামের ঘটনা। মৃত পরিবার কর্তার নাম জয়দেব দত্ত (৬২)। পেশায় দিনমজুর ছিলেন তিনি। বুধবার গভীর রাতে রানাঘাটের হাসপাতালে (Ranaghat Hospital) তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন রানাঘাট ১ পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল (Tmc) পরিচালিত বোর্ডের সভাপতি প্রদীপ ঘোষ সহ তাঁর দলীয় লোকজন। তাঁরাও দুষছেন নির্বাচন কমিশনকে (Election Commission)। একই সঙ্গে বিজেপি (BJP) সরকারকেও।
জয়দেবের বাড়ি কলাইঘাটা গ্রামের কলোনি পাড়ায়। তৃণমূলের হবিবপুর অঞ্চল কমিটির সভাপতি এবং একই বুথের বাসিন্দা নবকুমার ভদ্র বলেন, জয়দেববাবু পেশায় দিনমজুর ছিলেন। তবে ইদানিং তেমন বেশি কাজ করতে পারছিলেন না। বার্ধক্য ভাতা পেতেন। আর ওঁর স্ত্রী সুজলা দত্ত অন্যের বাড়িতে কাজ করে সামান্য যে আয় করেন তাই দিয়েই চলছিল ওঁদের সংসার। একমাত্র ছেলে মহানন্দ দত্ত মানসিক অসুস্থ বলে এমনিতেই দুশ্চিন্তায় ছিলেন ওই দম্পতি। এর মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হলে আমিও দেখেছি জয়দেব দত্ত এবং ওঁর ছেলে দুজনের নামের পাশেই 'ডিলিটেড' লেখা। এমনকি বিবাহ সূত্রে অন্য জেলায় থাকা ওঁদের মেয়ের নামও সেই জেলার ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে।
ছেলে মেয়ে এবং নিজের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে জেনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন জয়দেব। আমরা পাশে আছি আশ্বস্ত করলেও ওঁকে বোঝাতে পারিনি। মানসিক চাপ এতটাই ছিল যে শেষপর্যন্ত মঙ্গল বার রাতে ওঁকে রানাঘাট হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। বুধবার গভীর রাতে মৃত্যুর খবর আসে। হার্ট এটাকে মৃত্যু বলে হাসপাতাল থেকে জেনেছি।
জয়দেবের স্ত্রী সুজলা দত্তর কান্না থামছে না । কাঁদতে কাঁদতেই সুজলা বলেন, আমাদের বাড়ির পুরোনো দলিল সহ অনেক নথিই রয়েছে। ২০০২ সালের আগেও ওঁর নাম ছিল ভোটার তালিকায়। কিন্তু ২০০২ এ ছিল না। এবার ছেলে মেয়ে (বিবাহিত) এবং স্বামীর নাম একসঙ্গে বাদ গিয়েছে শোনা মাত্রই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। টেনশনেই চলে গেল আমাদের বাড়িওয়ালা (স্বামী) ।
জয়দেবের বিবাহিত মেয়ে স্বপ্না বিশ্বাস বলেন, বাবা অসুস্থ শুনে বাপের বাড়ি ছুটে আসি। বাবার ২০০২ এর আগেও ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু এবার একসঙ্গে তিনজনের নাম বাদ পড়েছে শুনে চরম উৎকণ্ঠায় পড়েন। এই কারণেই বাবার মৃত্যু হল। তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রদীপ ঘোষ বলেন, এই মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশন দায়ি। আর পিছনে থেকে নাম কেটে দেওয়ার চক্রান্ত করছে বিজেপি। অন্যদিকে বিজেপির নদিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র বলেন, জয়দেববাবুর মৃত্যু হৃদরোগে হয়েছে এবং এটিকে এসআইআর আতঙ্ক বলে রাজনৈতিকভাবে প্রচার করা হচ্ছে।