মধ্যমগ্রামে আগুনের (Madhyamgram Fire) ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে দিলীপ শীলের (৫০)। তাঁকে হারিয়ে দিশাহারা পরিবারের লোকেরা। দাদা আনন্দ শীলের পায়ের সমস্যা। এখন আর কাজ করতে পারেন না তিনি। ভাইয়ের আয় সংসারে বড় ভরসা। কী ভাবে কী করবেন, বুঝতেই পারছেন না।
ইতিমধ্যেই মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ হোটেল মালিক বিকাশ মালি ওরফে বাপিকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের কাছে বাপি স্বীকার করেছে, তাঁর দোকানের পিছনে বিরিয়ানি তৈরি হচ্ছিল। সেই সময়ে গ্যাস লিক করে আগুন লাগে। তার পিছনে কাঠগোলা। সেই মজুদ করা কাঠে আগুন লাগতেই এই ঘটনা। আগুন লেগেছিল দেখে দিলীপ তাঁর জামাকাপড় আনতে যান। আর ফেরেননি।
বুধবার মধ্যমগ্রামে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় আগুন লাগে। সেই ঘটনায় মৃত্যু হয় দিলীপ শীলের। আগুনে যে রেস্তোরাঁ পুড়ে খাক, সেখানেই কাজ করতেন দিলীপ। দিলীপ বিয়ে করেননি। দাদা, বৌদি, ভাইপোর সঙ্গে থাকতেন। বসিরহাটের ময়লাখোলা গোডাউনপাড়ায় বাড়ি দিলীপের। যদিও মাঝেমধ্যে বাড়ি যেতেন। দাদার হাতে টাকা দিয়ে আসতেন।
আনন্দ ভাইয়ের থেকে চার বছরের বড়। আগে ছোটখাটো ব্যবসা করতেন। পায়ের সমস্যার কারণে এখন আর কাজ করতে পারেন না। ছেলে-স্ত্রী টুকটাক কাজ করেন। আর ভাই বড় ভরসা দাদার। প্রথমে মধ্যমগ্রামে এসে তেলেভাজার দোকানে কাজ করতেন দিলীপ। পরে ওই রেস্তোরাঁয় কাজ পান।
এক-দু’মাস অন্তর বসিরহাটের বাড়িতে যেতেন। সপ্তাহখানেক থেকে চলে আসতেন। ভাই নেই, ভাবতেই পারছেন না আনন্দ। কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলছেন। এখনও ভাইয়ের দেহ দেখেননি তিনি। জানান, ‘ও দৃশ্য দেখতে পারব না।’
মধ্যমগ্রাম থানা সব রকম ভাবে সাহায্য করছে বলে জানান আনন্দ শীল। ময়নাতদন্ত করে নানা পরীক্ষানিরীক্ষার পরে দেহ পেতে আরও কিছুটা সময় লাগবে পরিবারের। দাদারও নমুনা পরীক্ষা হবে, তার পরে দেহ হস্তান্তর।