সেবাশ্রয়ের হাত ধরে নতুন জীবন পেতে চলেছেন নন্দীগ্রামের (Nandigram) দুই নাবালিকা। দীর্ঘদিন ধরেই জটিল হৃদরোগে ভুগছে সুপর্ণা জানা এবং অর্পিতা দলুই। কিন্তু অভাবের সংসারে চিকিৎসার বিপুল খরচ জোগাবে কে? এগিয়ে এসেছে সেবাশ্রয় (Sebaashray)। বৃহস্পতিবার দিল্লির এইমসে তাঁদের চিকিৎসা শুরু হলো। এ দিন সন্ধ্যায় X হ্যান্ডলে সেই খবর জানিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) লিখেছেন, ‘ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবে তারা। আমরা সামান্য ভূমিকা রাখতে পেরেছি। এতেই আনন্দিত।’
নন্দীগ্রামের দু’টি ব্লকে সম্পূর্ণ নিজের উদ্যোগে সেবাশ্রয়ের ক্যাম্প করেছিলেন অভিষেক। সেখানেই এসেছিলেন অর্পিতা আর সুপর্ণা। ছয় বছর বয়স থেকে মাঝে মধ্যেই শ্বাসকষ্ট হতো অর্পিতার। চিকিৎসকরা দেখেন, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা অস্বাভাবিক ভাবে কম। জটিল অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। সুপর্ণা জানার সমস্যাও অনেকটা একই রকম। একটু হাঁটাচলা করলেই হাঁফিয়ে যায়। এর সঙ্গে তার ডাউন সিন্ড্রোমও রয়েছে। সঙ্গে পেটে অ্যাসাইটিস (জল জমা)।
সেবাশ্রয়ের চিকিৎসকরা জানান, অর্পিতা আর সুপর্ণার অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। কিন্তু নিম্নবিত্ত পরিবার চিকিৎসার বিপুল খরচের কথা ভেবে চিন্তায় পড়ে যান। এই খবর শুনেই তৎপর হন অভিষেক। তাঁর নির্দেশেই দিল্লির এইমসে পাঠানো হয় দুই শিশুকে। এ দিন থেকেই সেখানে চিকিৎসা শুরু হয়েছে তাঁদের। চিকিৎসার খরচ, দুই শিশুকে নিয়ে দিল্লিতে থাকার ব্যয়ভার, সবই জোগাচ্ছেন তিনি।
চিকিৎসা শুরুর খবর জানিয়ে X হ্যান্ডলে অভিষেক লিখেছেন, ‘নন্দীগ্রামের দুই শিশু আরোগ্যের পথে যাত্রা শুরু করেছে - এতে আমাদের সামান্য ভূমিকা রয়েছে। আমরা আনন্দিত।’ দুই শিশুর পরিবারের আর্থিক অবস্থার কথাও জানিয়েছেন তিনি। লিখেছেন, ‘দুই শিশুর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে কঠোর সংগ্রাম করছে। অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।’
সেবাশ্রয়ে আসার পরে দুই শিশুর চিকিৎসার নির্দেশ দেন অভিষেক। তার পরেই দিল্লির এইমসে পাঠানো হয় তাদের। এ দিন সেখানে তাঁদের পরীক্ষা করেন চিকিৎসকরা। আপাতত দিল্লিতে থেকেই তাঁদের চিকিৎসা হবে। অভিষেক লিখেছেন, ‘আশা করি খুব শীঘ্রই দুই শিশুর মুখে হাসি ফুটবে। ওরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবে।’ অভিষেককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দুই শিশুর পরিবারও।