মহিলা-ফান্ড, সপ্তম বেতন কমিশন, সরকারি চাকরি, যা যা থাকছে BJP-র ইস্তাহারে
আজ তক | ০৬ মার্চ ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে একাধিক জনমুখী প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী ইস্তাহার তৈরির প্রস্তুতি শুরু করেছে বিজেপি। সূত্রের খবর, সরকারি কর্মচারী, যুবসমাজ এবং মহিলাদের জন্য একাধিক ঘোষণা থাকবে এবারের ইস্তাহারে। একই সঙ্গে তৃণমূলের শাসনকালে রাজ্যের কী কী ক্ষতি হয়েছে তারও খতিয়ান তুলে ধরা হবে গেরুয়া শিবিরের ঘোষণাপত্রে।
সরকারি কর্মীদের জন্য ঘোষণা ও বেতন কমিশন
ক্ষমতায় আসার পর থেকে সরকারি কর্মীদের আন্দোলন, ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যে পড়তে হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে। সেই সুযোগকে ইস্তাহারে কাজে লাগাতে চায় বিজেপি। সূত্রের দাবি, বিজেপির ইস্তাহারের অন্যতম বড় ঘোষণা হতে চলেছে, রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন চালু করা। দলীয় সূত্রের দাবি, ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গের লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারীর বেতন ও ভাতা কেন্দ্রের কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংশোধন করা হবে। দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের সরকারি কর্মীরা এই দাবি জানিয়ে আসছেন।
যুবকদের জন্য ব্যাপক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি
চাকরির বিষয়টিও বিজেপির ইস্তাহারে গুরুত্ব পেতে চলেছে। সূত্রের খবর, বাতিল হয়ে যাওয়া সরকারি পদ পুনরুদ্ধার এবং প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে শূন্যপদ পূরণের জন্য নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে। দলীয় নেতাদের দাবি, সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক পদ্ধতিতে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে যাতে রাজ্যের যুবকদের নতুন সুযোগ তৈরি হয়।
মহিলাদের ক্ষমতায়নে ₹৫,৭০০ কোটি তহবিল
মহিলাদের জন্য প্রায় ৫,৭০০ কোটির একটি বিশেষ তহবিল গঠনের কথাও ঘোষণা করতে পারে বিজেপি। এই তহবিল ব্যবহার করা হবে জীবিকা প্রকল্প, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি, স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে শক্তিশালী করা, শিক্ষায় সহায়তা এবং মহিলাদের নিরাপত্তা ও আর্থিক স্বনির্ভরতা বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগে।
সীমান্ত নিরাপত্তায় জোর
রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়টিও ইস্তাহারে গুরুত্ব পেতে পারে। বিজেপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত এলাকায় সম্পূর্ণ বেড়া দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকবে যাতে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করা যায়।
‘সিন্ডিকেট রাজ’-এর অবসানের প্রতিশ্রুতি
বিজেপি ইস্তাহারে তথাকথিত ‘সিন্ডিকেট সংস্কৃতি’ ভাঙার প্রতিশ্রুতিও দিতে চলেছে। দলীয় সূত্রের অভিযোগ, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় নির্মাণ ও ব্যবসায়িক কাজে একটি সিন্ডিকেট নেটওয়ার্ক কাজ করে, যা বিনিয়োগের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ক্ষমতায় এলে এই ধরনের চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট প্রথা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।