আবর্জনা ও ঝোপঝাড়ে ঢাকা একটি জায়গা। একেবারে শহর এলাকার মধ্যে। তার মধ্যে পড়েছিল একটি প্যাকিং বাক্স। আগাগোড়া টেপ দিয়ে ঢাকা, আর গায়ে একটি লেবেল সাঁটা। দেখতে অনেকটাই কুরিয়ারে আসা পার্সেলের মতো। সেটা দেখেই উঁকিঝুকি মেরেছিলেন অনেকে। তারপরে যা চোখে পড়ল, তা দেখেই কার্যত হিমস্রোত নেমেছে তাঁদের শিরদাঁড়ায়। লেবেলের গায়ে প্রেরকের ঠিকানার জায়গায় লেখা ‘ইসলামাবাদ’। তারপরেই নিমেষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে বোমাতঙ্ক। উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ পুর এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মিলনপাড়া ঘটনা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রায়গঞ্জ থানার পুলিশ।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, যে এলাকায় পার্সেল পড়েছিল সেটি একটি পরিত্যক্ত জায়গা, নোংরা-আবর্জনা ফেলা হয় সেখানে। স্থানীয় কয়েকজন দেখেন যে ঠিকানায় পার্সেল এসেছে সেটি ওই এলাকারই একটি ঠিকানা। স্থানীয় এক মহিলার নামে এসেছিল ওই পার্সেলটি। কিন্তু প্রেরকের ঠিকানার জায়গায় রয়েছে ইসলামাবাদ লেখা। পাকিস্তানের রাজধানীর নাম দেখে, সেই জায়গা থেকে রায়গঞ্জে কেন পার্সেল আসবে তা নিয়ে তুমুল শোরগোল পড়ে যায়। কী ভাবে ওই জায়গায় পার্সেলটি এলো তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয় এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দা রামু শীল বলেন, ‘কোথা থেকে কী ভাবে এই পার্সেল এল আমরা জানি না। ইসলামাবাদের ঠিকানা দেখে আমরা আতঙ্কিত।’ স্থানীয় বাসিন্দা সুমতি দাসের গলাতেও আতঙ্কের স্বর। তাঁর ভয়, ‘ওটার মধ্যে কী আছে কে জানে।’ এলাকায় আসেন স্থানীয় ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটর সাধন কুমার বর্মন।
রায়গঞ্জ থানার আইসি উদয় শঙ্কর ঘোষের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে আসে। আনা হয় স্নিফার ডগ ও বম্ব স্কোয়াড। সব কিছু খতিয়ে দেখে পুলিশ। বৃহস্পতিবার স্নিফার ডগ এনে পার্সেল পরীক্ষা করা হলেও সন্দেহজনক কিছু মেলেনি। শনাক্ত হয়নি। আরও নিশ্চিত হতে হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করে পার্সেলটি পরীক্ষা করা হয়। তাতেও কোনও কিছু না ধরা পড়ায় বিকাল পার্সেলটি খোলে পুলিশ। তারপরেই হয় রহস্যভেদ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে মিলনপাড়ার বাসিন্দা শুক্লা দাসের বাড়িতে ওই পার্সেল ডেলিভারি দিতে যায় নেতাজিপল্লীর বাসিন্দা পেশায় পার্সেল ডেলিভারি কর্মী শুভ্র শঙ্কর চক্রবর্তী। শুক্লা দাস তাকে জানান, যে জিনিস অর্ডার করেছিলেন সেটা আসেনি, তাই তিনি পার্সেলটি নেননি। এরপর শুভ্র শঙ্কর চক্রবর্তী পার্সেল নিয়ে অফিসের দিকে রওনা দেন। কিন্তু ফেরার পথে তাঁর ব্যাগ থেকে কোনওভাবে পার্সেলটি পড়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সেটা না পেয়ে নিজের পকেট থেকে ফাইন দিয়ে পার্সেলটি ডেলিভারি দেখিয়ে দেন তিনি। শুভ্র শঙ্কর চক্রবর্তী বলেন, ‘নিজের পকেট থেকে ৩৭০ টাকার মতো ফাইন দিয়ে ডেলিভারি দেখিয়ে দিই। বৃহস্পতিবার পুলিশ আমায় এ বিষয়ে জানতে চায়, আমি গোটা ঘটনা পুলিশকে জানাই। ভাবতেও পারিনি যে এত কিছু হয়ে যাবে।’ শুক্লা দাস বলেন, ‘আমি বড় সাইজের ফুলদানি অর্ডার করেছিলাম, কিন্তু যেটা এসেছে তা অনেক ছোট, আমি নিইনি।’
রায়গঞ্জ থানার আইসি উদয়শঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘ইসলামাবাদ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক ছিল, সেটা আর কিছুই না। উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর ইসলামাবাদ থেকে এসেছে পার্সেলটি।’