• ছিলেন IB-এর কর্তা, স্ট্যালিনের সঙ্গে তীব্র বিরোধ, বোসের পরে বাংলায় এ বার রবি
    এই সময় | ০৬ মার্চ ২০২৬
  • পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) এখন ভোটের ভরা বাজার। দিনক্ষণ ঘোষণা হয়নি ঠিকই, তবে উত্তাপ টের পাওয়া যাচ্ছে। এই আবহে বৃহস্পতিবার রাজ্যপাল পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সিভি আনন্দ বোস (CV Ananda Bose)। তবে পদত্যাগের কারণ স্পষ্ট করেননি তিনি। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল (West Bengal New Governor) করা হলো আরএন রবিকে (RN Ravi)। এ দিন রাতে একটি প্রেস বিবৃতিতে এই খবর জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।

    রবি আগে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল ছিলেন। সেখান থেকে সরিয়ে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ করা হলো। আনন্দ বোসের আচমকা ইস্তফায় তিনি ‘স্তম্ভিত’ হয়ে গিয়েছেন জানিয়ে X হ্যান্ডলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘আরএন রবিকে বাংলার নতুন রাজ্যপাল করা হচ্ছে বলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে সবে মাত্র জানালেন। কিন্তু রীতি অনুযায়ী তিনি আমার সঙ্গে কোনও পরামর্শ করেননি।’

    আরএন রবির পুরো নাম রবীন্দ্র নারায়ণ রবি। দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। কেন্দ্রীয় মহলেও পরিচিত নাম। ১৯৭৬ ব্যাচের কেরালা ক্যাডারের অফিসার তিনি। এক সময়ে দেশের গোয়েন্দা দপ্তরের স্পেশাল ডিরেক্টর ছিলেন তিনি। ছিলেন সিবিআই-তেও। ডেপুটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজারের দায়িত্বও সামলেছেন। মাওবাদী এলাকায় বিদ্রোহ দমন থেকে শুরু করে নাগা শান্তি আলোচনায় কেন্দ্রীয় সরকারের তুরুপের তাস ছিলেন তিনি।

    আইপিএস অফিসার হিসেবে ২০১২ সালে অবসর নেন রবি। এর পরে ২০১৯-এ তাঁকে রাজ্যপালের দায়িত্ব দিয়ে নাগাল্যান্ডে পাঠানো হয়। মেঘালয়ের অতিরিক্ত রাজ্যপালের দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। এর পরে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল হন রবি। মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের সঙ্গে একাধিক বার সংঘাতে জড়িয়েছেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারের ফাইল আটকে রাখার অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টেও গিয়েছিলেন স্ট্যালিন। এমনকি রাষ্ট্রপতির কাছে রবিকে বরখাস্ত করার আবেদনও করেছিলেন তিনি।

    বিধানসভা ভোটের মুখে পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব নিয়ে এলেন আরএন রবি। তাঁর নিয়োগের পরেই তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গোটা বিষয়ে তাঁকে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করে X হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ‘এই পদক্ষেপ ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় আঘাত। রাজ্যের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে এমন একতরফা সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকাই উচিত।’

  • Link to this news (এই সময়)