রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনার বিষয়ে ‘নিষেধাজ্ঞা’ আরোপ করেছিল আমেরিকা। রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি বন্ধ করার শর্তেই ভারতীয় পণ্যের উপর ট্যারিফ কমিয়েছিলেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তবে, ইরানে হামলার (Iran war) জেরে সঙ্কট দেখা দিয়েছে জ্বালানি তেলের। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনার জন্য আমেরিকার ছাড়পত্র পেল ভারত (India)। ইরান তথা পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির কারণে আগামী ৩০ দিনের জন্য রাশিয়া (Russia) থেকে ভারত তেল কিনতে পারবে। শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে এ কথা জানিয়েছেন আমেরিকার ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট।
হরমুজ় প্রণালী দিয়ে চলাচল সাময়িক 'বন্ধ' করে দেওয়া হয়েছে। ফলে বিশ্বজুড়ে দেখা দিয়েছে জ্বালানি সঙ্কট। অপরিশোধিত তেলের (ব্রেন্ট ক্রুড) দাম ইতিমধ্যেই প্রায় ২০% বেড়ে গিয়েছে। হরমুজ় প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী পণ্যবাহী জাহাজকে মার্কিন সেনার পাহারায় পথটা পার করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন ট্রাম্প। যদিও ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড দাবি করেছে, পুরো হরমুজ় প্রণালী পথই তেহরানের (Teheran) দখলে রয়েছে। উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে তা সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। সেখানে এখ শুধুমাত্র চিনা জাহাজগুলিকে ছাড় দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।
পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার জেরে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। আর, এর মধ্যেই বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে প্রশাসন এই পদক্ষেপ করেছে। কী কারণে ভারতকে রাশিয়াকে থেকে জ্বালানি আমদানি করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে তাও জানিয়েছেন আমেরিকার ট্রেজারি সেক্রেটারি। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে, ভারতকে আমেরিকার ‘অপরিহার্য অংশীদার ’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়া X-এর একটি পোস্টে স্কট বেসেন্ট (Scott Bessent) লিখেছেন, ট্রাম্পের জ্বালানি কর্মসূচির ফলে তেল ও গ্যাস উৎপাদন সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। সেই সঙ্গেই তিনি জনান, বিশ্ব বাজারে তেলের প্রবাহ অব্যাহত রাখতে, ট্রেজারি বিভাগ ভারতীয় পরিশোধকদের রাশিয়ান তেল কেনার অনুমতি দেওয়ার জন্য ৩০ দিনের একটি অস্থায়ী ছাড় জারি করছে।
তবে, ইচ্ছাকৃতভাবে এই স্বল্পমেয়াদী ব্যবস্থা রাশিয়ান সরকারকে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা প্রদান করবে না। কারণ এটি কেবল সমুদ্রে আটকে থাকা তেল সম্পর্কিত লেনদেনের অনুমোদন দেবে। এরই সঙ্গে আশা, আমেরিকা থেকে জ্বালানি তেল কেনার পরিমাণ বৃদ্ধি করবে নয়াদিল্লি।