• চুরির ইনসুলিন বাজারে এলে বিপদ! ক্রেতা–বিক্রেতাদের সতর্কবার্তা কেন্দ্রের
    এই সময় | ০৬ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: মহারাষ্ট্র থেকে ট্রাকে কলকাতায় আসছিল বিপুল পরিমাণে ইনসুলিন। সেই ট্রাকই মাঝপথে ওডিশা থেকে গায়েব হয়ে যায়। সেই সঙ্গে উধাও ওই কনসাইনমেন্টে থাকা যাবতীয় ইনসুলিন। সেই ইনসুলিনের চোরাপথে বাজারে ঢোকার আশঙ্কা যে ১৬ আনা, তা মনে করিয়ে ডায়াবিটিস রোগী ও ওষুধ বিক্রেতাদের জন্য সতর্কতা জারি করল কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেন্ট্রাল ড্রাগস অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজ়েশন (সিডিএসসিও)। কেন এই সতর্কতা? কারণ আশঙ্কা থেকেই যায় অযত্নে ‘সংরক্ষিত’ সেই চুরি যাওয়া ইনসুলিন ব্যবহার করলে হিতে বিপরীত হতে পারে ডায়াবিটিস রোগীদের।

    ফরাসি বহুজাতিক ওষুধ সংস্থা ‘স্যানফি ইন্ডিয়া’র তৈরি আর–ডিএনএ ভিত্তিক ১০০ আইইউ/মিলি–এর ‘ল্যান্টাস সোলো–স্টার ইনসুলিন গ্লার্জিন’ ইঞ্জেকশনের একটি নির্দিষ্ট চালান চুরি হয়ে গিয়েছে মাঝপথেই। ইঞ্জেকশনের ৫এফ০৩৪৭বি ব্যাচ নম্বরের বিপুল সংখ্যার কার্ট্রিজ ওডিশার জগমোহনপুরে কেওনঝড় রোড থেকে কোম্পানির কলকাতার ক্যারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্টে আসার পথে নিখোঁজ হয়ে যায়। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। অন্য দিকে, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের উদ্বেগ চুরি যাওয়া এই ইনসুলিন ভবিষ্যতে অবৈধ পথে বাজারে না ঢুকে পড়ে!

    ফার্মাকোলজির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের ইনসুলিন অত্যন্ত সংবেদনশীল ওষুধ। এগুলি সবসময় ২ ডিগ্রি থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়। নির্ধারিত তাপমাত্রা বজায় না থাকলে ইনসুলিনের কার্যকারিতা দ্রুত কমে যেতে পারে কিংবা সম্পূর্ণ নষ্টও হয়ে যেতে পারে। ফলে যদি চুরি যাওয়া এই ব্যাচের ইনসুলিন সঠিক কোল্ড-চেন ছাড়া কোথাও সংরক্ষিত হয়ে থাকে এবং পরে তা বাজারে ঢুকে পড়ার পরে বিক্রি হয়, তা হলে ডায়াবিটিস রোগীদের চিকিৎসায় বড় বিপদ ঘটতে পারে। অর্থাৎ রোগীরা অজান্তেই এমন ইনসুলিন ব্যবহার করতে পারেন, যার কার্যকারিতা কমে গিয়েছে বা গুণগত মান নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এতে ব্লাডসুগার নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হতে পারে এবং রোগীর স্বাস্থ্যের উপরে গুরুতর প্রভাব পড়ার ঝুঁকি থাকে।

    এই পরিস্থিতিতে দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ড্রাগ কন্ট্রোলারদের বাজারে ওই ব্যাচের ইনসুলিনের গতিবিধির উপরে কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। প্রয়োজনে ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিকস আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদেরও রোগীদের সচেতন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনও অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া বা সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত রিপোর্ট করা হয়। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ইনসুলিন বা অন্য কোনও ইঞ্জেক্টেবল ওষুধ কেনার সময়ে অবশ্যই অনুমোদিত দোকান থেকে বিল–সহ কিনতে হবে এবং প্যাকেটের ব্যাচ নম্বর যাচাই করতে হবে।

  • Link to this news (এই সময়)