• এক দিনে ৯৫ হাজার নথি যাচাই! প্রশ্নে অবজ়ার্ভাররা
    এই সময় | ০৬ মার্চ ২০২৬
  • শীর্ষেন্দু দেবনাথ

    বাংলায় চূড়ান্ত ভোটার লিস্টে ৬০ লক্ষের বেশি ভোটার কেন ‘আন্ডার অ্যাজুডিকেশন’ বা ‘বিচারাধীন’— তা নিয়ে ইতিমধ্যেই কমিশনের সঙ্গে সংঘাত চলছে রাজ্য প্রশাসন ও রাজ্যের শাসকদলের। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাম–কংগ্রেস নেতৃত্বও। এর দায় কার? কমিশনের দাবি, ইআরও–এইআরওদের একাংশের জন্য এতগুলো ভোটারের কেস ফয়সালা হয়নি। কমিশনের এই বিবৃতির পরেই রাজ্যের আমলারা অর্থাৎ ডব্লিউবিসিএস অফিসারদের সংগঠন জানিয়ে দেয়, এই দায় ইআরও, এইআরও-দের নয়। এই দায় কমিশন নিযুক্ত অবজ়ার্ভারদের। কারণ, কমিশনের নিযুক্ত অবজ়ার্ভার এবং মাইক্রো অবজ়ার্ভাররা কোনও পর্যবেক্ষণ ও মতামত ছাড়াই একাধিক কেস বাতিল করেছেন। সেই কারণেই ‘আন্ডার অ্যাজুডিকেশন’-এর তালিকায় এত বেশি নাম যুক্ত হয়েছে। এ বার এ নিয়ে উঠে এল আরও চমকপ্রদ তথ্য। একাধিক জেলায় দেখা গিয়েছে, দেড়-দু’দিনে বা একদিনে লাখ খানেকের মতো ভোটারের (কেস) রিভিউয়ের জন্য একাই সিলেক্ট করেছেন এক–এক জন রোল অবজ়ার্ভার।

    এ রকমই একটি নথি অনুযায়ী, বীরভূম জেলায় গত ১৯ ফেব্রুয়ারিতে রোল অবজ়ার্ভার ৩৭ হাজার ডকুমেন্ট রিভিউ করেছেন। আবার ২১ তারিখ নিজে দেখে রিভিউয়ের জন্য পাঠিয়েছেন ৯৫ হাজার ভোটারের নথি। যা কি না ১২, ১৩ ফেব্রুয়ারির সময়ে ছিল এক হাজারের কাছাকাছি। কী ভাবে এমনটা সম্ভব, সেই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। রাজ্যের এক কর্তা বলেন, ‘যদি ধরে নেওয়া যায় এক মিনিট করেও একটি রিভিউ করতে সময় লেগেছে, তা–ও একজন মানুষের পক্ষে একদিনে এতগুলো রিভিউ সম্ভব নয়।’সূত্রের দাবি, দুই মেদিনীপুর, দুই বর্ধমানেও এমন বহু উদাহরণ রয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের এক অফিসার বলেন, ‘২১ তারিখ রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে একসঙ্গে হাজার হাজার কেস রিভিউ হয়েছে। আমরা নিজেরা সেই ঘটনার সাক্ষী।’ কোচবিহারের একটি বিধানসভায় ২০ ফেব্রুয়ারি এক জন এইআরও-র অধীনে ১১৩টি কেস রিভিউ হিসেবে উল্লেখ ছিল, ২১ তারিখ সকালে দেখা যায় সেই সংখ্যা ৩,১৮৭। ওই কর্তার প্রশ্ন, ‘১০-১২ ঘণ্টার মধ্যে কি এতগুলি কেস চোখে দেখেও রিভিউতে পাঠানো যায়? আসলে কাজ দেখাতে হয়তো কোনও কিছু না ভেবে র‍্যান্ডমলি এই কাজ করা হয়েছে।’

    রিভিউ করার মধ্যে যে কেসগুলি ‘মার্কড ফর ডকুমেন্ট রিভিউ, ইআরও ডিসএগ্রিড’ হিসেবে ছিল, তা তো ‘বিচারাধীন’ হয়েইছে, রাজ্যের কর্তাদের দাবি, যে কেসগুলি লাইনে ছিল অর্থাৎ এইআরওকে নিষ্পত্তি করার সময় দেওয়া হয়নি, সেগুলিও ওই ৬০ লাখে যোগ হয়েছে। যদিও কমিশনের এক কর্তার যুক্তি, ‘রোল অবজ়ার্ভারদের টিম অর্থাৎ এক জন রোল অবজ়ার্ভারের অধীনে প্রায় ২০-২২ জন মাইক্রো অবজ়ার্ভার মিলে এই কাজটা করেছেন। ফলে সে ক্ষেত্রে এই সংখ্যা হওয়া অসম্ভব কিছু নয়।’ রাজ্যের প্রশাসনিক কর্তাদের পাল্টা প্রশ্ন, ‘এমন কোনও নির্দেশিকা তো জারি হয়নি এই কাজ সকলে মিলে করবেন। এটা তো শুধু মাত্র রোল অবজ়ার্ভারদের কাজ। এটা হয়ে থাকলে কমিশন তারই নিয়ম ভেঙেছে।’ পাশাপাশি ওই কর্তা বলছেন, ‘মাইক্রো অবজ়ার্ভাররা তো আগেই রিভিউ করেছেন। ফলে এক্ষেত্রে কোনও যুক্তিতেই তাঁর কাজ এটা নয়।’

    কিন্তু সিইও অফিস ‘অ্যাজুডিকেশন’–এর দায় সবটাই রাজ্য প্রশাসনের ঘাড়ে চাপানোয় প্রবল ক্ষোভ তৈরি হয়েছে গত কয়েকদিনে। সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, ইআরও এবং এইআরও-রা নিয়ম মেনে শুনানি ও নথি আপলোডের কাজ করেছেন। কিন্তু মাইক্রো ও রোল অবজ়ার্ভাররা অনেক নিষ্পত্তি হওয়া কেস কোনও মন্তব্য ছাড়াই ফেরত পাঠান, যার ফলে বহু নাম ‘বিচারাধীন’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

    এ ব্যাপারে যদিও কমিশনের কোনও কর্তাই সে ভাবে মুখ খুলতে চাননি। অ্যাডিশনাল সিইও অরিন্দম নিয়োগীকে ফোন করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি। এ ব্যাপারে জানতে মেসেজ করা হয়েছিল কমিশনের আর এক কর্তা দিব্যেন্দু দাসকেও। তাঁর থেকেও কোনও জবাব মেলেনি।

  • Link to this news (এই সময়)