স্নেহাশিস নিয়োগী
উলটপুরাণ!
স্কুল সার্ভিস কমিশনের নতুন নিয়োগে ইন্টারভিউয়ে ডাক পাওয়ার আগেই ২০১৬ সালের ‘যোগ্য’ চাকরিহারা শিক্ষকদের অভিজ্ঞতার নিরিখে তাঁদের জন্য ১০ নম্বরের সংস্থান করেছিল রাজ্য। তা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়েছে। এমনকী, রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেই রাস্তায় নেমে আন্দোলনের পাশাপাশি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন ফ্রেশাররা। সেই মামলা আদালতে বিচারাধীন। ‘যোগ্য’ চাকরিহারা শিক্ষকরা নতুন নিয়োগপত্র পেলে তাঁদের ‘সার্ভিস ব্রেক’ হবে নাকি তাঁদের পুরোনো চাকরিই ‘কন্টিনিউ’ করা হবে নতুন কোনও স্কুলে— এ সব বিষয়ের নিষ্পত্তি ওই মামলায় হওয়ার কথা। এ বার সেই ‘যোগ্য’দের মধ্যেই নিয়োগ পরীক্ষায় সফল হিসেবে যাঁদের নাম প্যানেলে উঠেছে, নতুন নিয়োগপত্র বিলি হওয়ার আগে কেন তাঁদের আবার পুলিশ ভেরিফিকেশন ও মেডিক্যাল চেকআপ হচ্ছে, তা নিয়ে দাবি–পাল্টা দাবিতে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
‘যোগ্য’দের অভিযোগ, ২০১৬ সালের বিজ্ঞপ্তি মেনে চাকরি পাওয়ার পরে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে নিয়োগের নতুন বিধি মেনে তাঁদের পুলিশ ভেরিফিকেশন ও মেডিক্যাল চেকআপ হয়েছিল। তা হলে নতুন করে তাঁদের এখন পুলিশ ভেরিফিকেশন ও মেডিক্যাল চেকআপের মুখোমুখি কেন হতে হচ্ছে? ওই ‘যোগ্য’–দের বক্তব্য, এর ফলে তাঁদের ‘সার্ভিস ব্রেক’ হবে, তাঁরা ৮–৯ বছরের সার্ভিস কন্টিনিউয়িটি এবং পে–প্রোটেকশনও পাবেন না। অবসরের পরে প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটির পাওনার ক্ষেত্রেও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে তাঁদের বক্তব্য।
‘যোগ্য’ চাকরিহারা শিক্ষকদের অভিযোগ, রাজ্য সরকার সার্ভিস কন্টিনিউয়িটি না–দিলে গ্র্যাজুয়েট শিক্ষকরা মাসে ১০ হাজার, অনার্স গ্র্যাজুয়েটরা ১৪ হাজার এবং মাস্টার্সরা মাসিক ১৫ হাজার টাকা করে কম বেতন পাবেন। ২০১৬ সালের যোগ্য চাকরিহারাদের অনেকেরই বয়স ইতিমধ্যে ৪০ বছর পেরিয়ে গিয়েছে। ২০১৬ সালের যোগ্য ১৩ হাজার ৮০০ জনই দু’টি স্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় বসেছিলেন।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুরের ঠেঙ্গাপাড়া হাইস্কুলের ভৌত বিজ্ঞানের ‘যোগ্য’ শিক্ষক ও নবম–দশমের শিক্ষক হওয়ার চাকরিপ্রার্থী রাকেশ আলমের কথায়, ‘স্কুল সার্ভিস কমিশনের ২০১৬ সালের প্রথম স্টেট লেভেল সিলেকশন টেস্টেই আমরা সব রকম যোগ্যতার মাপকাঠি পেরিয়ে নিয়োগপত্র পেয়েছিলাম। আমাদের পুলিশ ভেরিফিকেশন এবং মেডিক্যাল চেকআপও হয়েছিল। শীর্ষ আদালতও আমাদের যোগ্য বলে চিহ্নিত করে রায় দিয়েছে। তার পরে এখন নিয়োগপত্র দেওয়ার আগে পুলিশ ভেরিফিকেশন এবং মেডিক্যাল চেকআপ হলে নিয়োগে অযথা দেরি হবে। সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে নির্ধারিত সময়ে নিয়োগও হবে না। এতে আমাদের সার্ভিস ব্রেক হওয়ারও যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে।’
যদিও স্কুলশিক্ষা দপ্তরের কর্তারা এ প্রসঙ্গে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের একটি নির্দেশিকার উল্লেখ করছেন। যেখানে ২০২৩ ও ২০২৫ সালে প্রিন্সিপাল পদে বিভিন্ন কলেজের প্রায় ২০০ জন অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর সফল হলেও তাঁদের বেতন আগের চেয়ে অনেকটাই কমে গিয়েছে। বিকাশ ভবনের আধিকারিকদের দাবি, এসএসসি গত বছরের ৩০ ও ৩১ মে একাদশ–দ্বাদশ ও নবম–দশমে শিক্ষক নিয়োগের যে বিধি ও বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল, তাতেই চলতি নিয়োগ প্রক্রিয়াকে দ্বিতীয় এসএলএসটি বলা হয়েছিস। তা ছাড়া, সুপ্রিম–রায় মেনেই ফ্রেশ সিলেকশন। যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষিকা সঙ্গীতা সাহা বলেন, ‘শীর্ষ আদালতই মধ্যশিক্ষা পর্ষদের আবেদনের ভিত্তিতে আমাদের দু’দফায় চাকরির মেয়াদ বাড়িয়েছে।’