• কাজে যোগ দেওয়ার পরেই নিখোঁজ কনস্টেবল, ঝাড়গ্রাম থানায় অভিযোগ স্ত্রীয়ের
    এই সময় | ০৬ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়, ঝাড়গ্রাম: বাড়ি থেকে ফিরে কাজে যোগ দিয়েছিলেন। তার তিন দিনের মধ্যে রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হয়ে যান ঝাড়গ্রাম (Jhargram) জেলার এক পুলিশ কনস্টেবল (Police Constable)। তপন মাছুয়ার নামে ওই কনস্টেবলের স্ত্রী ১০ ফেব্রুয়ারি ঝাড়গ্রাম থানায় অভিযোগ করেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও হদিশ পাওয়া যায়নি। দুই মাস ধরে তপনের খোঁজ না পেয়ে ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন তাঁর দাদা ভুবন মাহাতো। এরপরেই বিষয়টি জানাজানি হয়। ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশ লাইনে কর্তব্যরত ছিলেন তপন। তাঁর বাড়ি পুরুলিয়া জেলার ঝালদা থানার কড়াডি গ্রামে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, একজন কনস্টেবলের নিখোঁজের পরেও কেন মাস দু’য়েক কেউ কিছু জানতেই পারল না? বিষয়টি সবার নজরে আনতে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিতে হলো কেন? নিখোঁজ তপনের জন্য চিন্তায় রয়েছেন তাঁর পরিবার। মঙ্গলবার পুরুলিয়া (Purulia) সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো কনস্টেবলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

    পুলিশ ও তপনের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ষবরণে ছুটি নিয়ে পিকনিকের জন্য বাড়ি গিয়েছিলেন তপন। ৭ জানুয়ারি বাড়ি থেকে ট্রেনে ঝাড়গ্রামে ফেরেন তিনি। ঝাড়গ্রামে ফিরে স্ত্রীর সঙ্গে কয়েক বার ফোনে কথা বলেন তপন। ঝাড়গ্রাম ফেরার তিন দিন পর থেকে তপনের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তপনের স্ত্রী তাঁর খোঁজে কয়েক বার পুলিশ লাইনে এসে খোঁজ নেন। কিন্তু কোনও খবর না মেলায় তিনি ফিরে যান। তপনের দাদা ভুবন মাছুয়ারও পুলিশ কনস্টেবল। তিনি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটালে কর্তব্যরত। ভাইয়ের খোঁজ নিতে জেলা পুলিশ লাইনে পৌঁছলে তিনি জানতে পারেন জানুয়ারির ১০ তারিখের পরে আর ডিউটিতে যোগ দেননি তপন। পুলিশ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে তপনের খোঁজ নেওয়ার জন্য জানায়।

    সেই মতো বিভিন্ন জায়গায় তপনের সন্ধান চালানোর পর না পেয়ে ফেব্রুয়ারি মাসের ১০ তারিখ ঝাড়গ্রাম থানায় তপনের স্ত্রী লিখিত অভিযোগ জানান। কিন্তু তারপরেও তপনের কোনও খোঁজ মেলেনি। তপনের দাদা ভুবন বলেন, ‘ভাইয়ের সঙ্গে প্রতিনিয়ত ফোনে কথা হতো। সে কিছুদিন পর পরই বাড়ি যেত। বাইরে ডিউটি করলেও প্রতিনিয়ত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। এই ধরনের ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। আমাদের অনুমান, তপনের সঙ্গে কোনও অঘটন ঘটেছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি ভাইয়ের বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জেনেছিলাম ভাই তাঁর দু’জন বন্ধুর সঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার রাতে কোথাও গিয়েছিল। তারপরের দিন থেকে ভাইয়ের আর দেখা নেই। আমার মনে হয় ভাইয়ের ওই দুই বন্ধু পুরো বিষয়টি জানে।’ তপনের পরিবারে স্ত্রী ও স্কুল পড়ুয়া দুই মেয়ে এবং এক ছেলে রয়েছে। ২০১২ সালে জুনিয়র কনস্টেবল পদে পুলিশের চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন তপন। প্রথম থেকেই ঝাড়গ্রামে কর্তব্যরত রয়েছেন তপন। তপনের নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বিগ্ন জেলা পুলিশও। ঝাড়গ্রামের পুলিশ সুপার মানব সিংলা বলেন, ‘একজন কনস্টেবল নিখোঁজ রয়েছেন। ওঁনার সন্ধান চালানো হচ্ছে।’

  • Link to this news (এই সময়)