• পাশ করেছে, কিন্তু বয়সের জেরে স্কুলে যাওয়া বন্ধ ছাত্রের
    এই সময় | ০৬ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়, পাঁশকুড়া: পাঁশকুড়ার তৌফিক হোসেন ষষ্ঠ থেকে সপ্তম শ্রেণিতে উঠেছে। বয়স অনুযায়ী ছেলেকে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তির আর্জি জানিয়েছেন তৌফিকের বাবা শেখ রফিক। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছেন ‘রেগুলার স্টুডেন্ট’ হিসেবে তৌফিককে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি করা যাবে না। পশ্চিমবঙ্গ শিশু সুরক্ষা কমিশনের (Child Protection Commission) দ্বারস্থ হয়েছেন নাছোড় বাবা। এখনও মেলেনি সমাধান সূত্র। সামনের মাসে প্রথম ফার্স্ট সামেটিভ মূল্যায়ন। অথচ এখনও স্কুলে যাওয়াই শুরু করেনি পাঁশকুড়া ব্রাডলিবার্ট হাইস্কুলের ছাত্র তৌফিক।

    পাঁশকুড়া পুরসভার (Panshkura Municipality) পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের নারান্দায় বাড়ি তৌফিকের। জন্ম ২০১২–র ৮ জুন। শিক্ষার অধিকার আইন অনুযায়ী (Right To Education) তৌফিকের এখন অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার কথা। জানা গিয়েছে, প্রাথমিকে এক বছর ড্রপ দেওয়ার কারণে তৌফিক এক ক্লাস পিছিয়ে পড়ে। রফিক জানুয়ারিতে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে আবেদন জানান, বয়স অনুযায়ী তাঁর ছেলেকে সরাসরি অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি করা হোক। তাতে আপত্তি জানান স্কুলের প্রধান শিক্ষক। শিক্ষা দপ্তরের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ শিশু সুরক্ষা কমিশনেও অভিযোগ জানা রফিক। শিশু সুরক্ষা কমিশন ৬ জানুয়ারি পূর্ব মেদিনীপুরের ডিস্ট্রিক্ট এডুকেশন অফিসারকে নির্দেশ দেয় শিক্ষার অধিকার আইন মেনে অবিলম্বে তৌফিককে ব্রাডলিবার্ট হাইস্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি করতে।

    অভিযোগ, তারপরেও তৌফিককে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি করেননি স্কুল কর্তৃপক্ষ। সমস্যা কোথায়? ব্রাডলিবার্ট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক দেবাশিস কামিলা বলেন, ‘তৌফিক ই স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি থেকে পড়ছে। রেগুলার স্টুডেন্ট হিসেবে সে এ বার সপ্তম শ্রেণিতে উঠেছে। বয়স হলেও তৌফিককে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি নেওয়া যাবে না। স্কুলছুটদের ক্ষেত্রে বয়স অনুযায়ী ক্লাসে ভর্তি করা হয়। রেগুলার স্টুডেন্টদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম খাটে না।’ ভর্তি নিয়ে এই টানাপড়েনের জেরে চলতি শিক্ষাবর্ষে এখনও স্কুলে যাওয়াই শুরু করেনি তৌফিক। তার ভবিষ্যৎ নিয়ে অভিভাবকরা। রফিক বলেন, ‘শিশু সুরক্ষা কমিশনের নির্দেশ সত্ত্বেও হেড স্যর ছেলেকে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি নিতে রাজি হননি।’ পাঁশকুড়া–১ চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক সুপ্রতিম গায়েন বলেন, ‘অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাশ-ফেল নেই। বাংলার শিক্ষা পোর্টালে এক জন পড়ুয়ার প্রোমোশন হয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে। আমরা চাইলেও একটি ক্লাস ড্রপ করে ওই ছাত্রকে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি নিতে পারব না।’

  • Link to this news (এই সময়)