এই সময়: দরিদ্র পরিবারের মহিলাদের ডিম্বাণু বিক্রির অবৈধ কারবারে জড়িত অভিযোগে বুধবার গ্রেপ্তার করা হলো মহারাষ্ট্রের এক চিকিৎসককে। এই কেসে আগেই তিন মহিলাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই ডাক্তার একটি আইভিএফ সেন্টারের অধিকর্তা।
বেশ কিছু সময় ধরে মহারাষ্ট্রের বদলাপুরে একটি চক্র এমন কাণ্ড ঘটাচ্ছে বলে সম্প্রতি অভিযোগ তোলেন মহারাষ্ট্র বিধান পরিষদের সদস্য, বিজেপির চিত্রা ওয়াঘ। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৪০ জন মহিলা এই চক্রের শিকার। এমনকী, এক জনের শরীর থেকে ৩৩ বার 'এগ এক্সট্র্যাকশন' হয়েছে! এ ধরনের কেসে শরীরে গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিষয়টি জানতে পেরে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে পদক্ষেপ করেছে জাতীয় মহিলা কমিশন। তাদের বক্তব্য, সুসংগঠিত ভাবে নেটওয়ার্ক তৈরি করে এ ভাবে অভাবী মহিলাদের পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়া হয়েছে। দরিদ্র মহিলাদের বুঝিয়ে, কখনও বা জোর করে এই কাজে বাধ্য করত চক্রে জড়িতরা। এই কাজ 'অ্যাসিস্টেড রিপ্রোডাক্টিভ টেকনোলজি (রেগুলেশন) আইন, ২০২১'–এর পরিপন্থী। ওই আইন অনুযায়ী, জীবনে মাত্র একবার ডিম্বাণু দান করা যায়, তা–ও কোনও ধরনের আর্থিক লেনদেন ছাড়া।
চক্রটির কথা প্রকাশ্যে আসার পরে গোটা রাজ্যের আইভিএফ সেন্টারে নজরদারি, প্রয়োজনে পদক্ষেপের কড়া বার্তা দিয়েছে মহারাষ্ট্র বিধান পরিষদ। এ জন্য পুলিশ–প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের নিয়ে জেলাস্তরে কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় ধৃত, অভিযুক্ত অমল পাতিল নাসিকের 'মালতী আইভিএফ সেন্টার'–এর ডিরেক্টর। তাঁকে কল্যাণ সেশনস কোর্টে হাজির করা হলে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজত দেন বিচারক। অভিযোগ, তিনি নিজেকে 'সারোগেট মাদার এজেন্ট' বলে দাবি করতেন। পুলিশের ডিসি সচিন গোরের কথা, 'প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, মূল অভিযুক্ত হিসেবে ধৃত তিন মহিলাই এই চিকিৎসকের আইভিএফ সেন্টারের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন।' এঁরা ছাড়াও দুই মহিলাকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
ওই তিন অভিযুক্ত মহিলা বদলাপুর এবং উল্লাসনগরে নিজেদের বাড়ি থেকে চালাতেন 'অপারেশন'। এঁদের এক জন, সুলক্ষণা গাড়েকর বাড়িতেই অসংখ্য হরমোনাল ইনজেকশন মজুত রেখে ফাঁদে পড়া মহিলাদের শরীরে সেগুলি পুশ করতেন। পরে ডিম্বাণু 'ডেভেলপ' করলে মহিলাদের পাঠানো হতো মালতী আইভিএফ–এর নাসিক বা ঠানে শাখায়। সেখানকার চিকিৎসকরা মেডিক্যাল প্রসিডিয়রে ডিম্বাণু বের করতেন, যা অবৈধ ভাবে বিক্রি করা হতো।
তদন্তকারীদের আশঙ্কা, আন্তর্জাতিক স্তরেও জাল বিস্তার করে থাকতে পারে চক্রটি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে মহারাষ্ট্র পুলিশের ডিজি–কে চিঠি লিখেছেন জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন রেখা শর্মা। ডিজিপি–কে পাঁচ দিনের মধ্যে বিস্তারিত 'অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট' জমা দিতে হবে কমিশনে।
চিত্রা ওয়াঘ জানিয়েছিলেন, টাকার টোপে দরিদ্র মহিলাদের উপর্যুপরি হরমোনাল ইনজেকশন দিয়ে অবৈধ ভাবে ডিম্বাণু বের করে ব্যবসা চলছে। এ জন্য ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে আইভিএফ সেন্টার ও সারোগেসি–কে। কম করে ৮–১০ বার 'এগ এক্সট্র্যাকশন'–এর পরে মহিলাদের ন্যূনতম মেডিক্যাল ফলো আপ পর্যন্ত করা হয়নি। তেলঙ্গানা, কর্নাটক–সহ একাধিক রাজ্যে যে এই চক্রের জাল বিস্তৃত, সে অভিযোগও করেছিলেন চিত্রা। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন বিধান পরিষদের ডেপুটি চেয়ারপার্সন নীলম গোরে। এ জন্য মেডিক্যাল কাউন্সিলকেও নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।