• দিল্লিতে পুলিশের জালে পিলখানায় প্রোমোটার খুনের দুই শুটার, কোন পথে পালায় অভিযুক্তরা?
    এই সময় | ০৬ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়, হাওড়া: হাওড়ার পিলখানায় প্রোমোটার খুনের ঘটনায় দুই মূল অভিযুক্ত শেখ হারুন খান এবং রফাকত হোসেন ওরফে রোহিতকে দিল্লির জামা মসজিদ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করল হাওড়া সিটি পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের একটি বিশেষ দল দিল্লিতে অভিযান চালিয়ে তাদের হাতেনাতে পাকড়াও করে। দু'জনকেই রিমান্ডে হাওড়ায় নিয়ে আসা হচ্ছে।

    গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ভোর সওয়া চারটে নাগাদ হাওড়ার পিলখানায় জনবহুল রাস্তায় দুষ্কৃতীদের গুলিতে নিহত হন স্থানীয় প্রোমোটার সফিক খান। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দুই অভিযুক্তকে চিহ্নিত করেন বাড়ির লোকেরা। পরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গোলাবাড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরা। সেই মতো হারুন ও রোহিতের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করে তদন্তে নামে হাওড়ার গোলাবাড়ি থানার পুলিশ। খুনের একদিন পরে কলকাতার বউবাজার এলাকা থেকে দুই অভিযুক্তের তিন শাগরেদকে গ্রেপ্তার করে হাওড়া পুলিশ। পরে গার্ডেনরিচ এলাকা থেকে আরও একজন পুলিশের জালে ধরা পড়ে। ধৃতদের বিরুদ্ধে অভিযুক্তদের আশ্রয় দেওয়া এবং পালাতে সাহায্য করার অভিযোগ উঠেছে। ধৃতদের জেরা করে বউবাজারের একটি বাড়ির জলের ট্যাঙ্ক থেকে অস্ত্র উদ্ধার হয়। ধৃতেরা জেরার মুখে জানায়, হারুন ও রোহিত তাঁদের কাছে অস্ত্রটি রাখতে দিয়েছিল। ওই অস্ত্র দিয়েই প্রোমোটারকে গুলি করা হয়েছিল। কিন্তু আসল দুই অভিযুক্ত ধরা না পড়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। হারুনের সঙ্গে উত্তর হাওড়ার তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর ছবি প্রকাশ্যে আসার পরে তা নিয়ে সরব হন বিরোধীরা। ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করার হুঁশিয়ারি দেয় বিজেপি। তারপরেই ঘটনার তদন্তভার হাওড়া পুলিশের হাত থেকে নিয়ে সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়। হাওড়া সিটি পুলিশও পাশাপাশি তদন্ত চালাচ্ছিল। তারাই শেষ পর্যন্ত দুই মূল অভিযুক্তকে ধরতে সক্ষম হয়।

    হাওড়া সিটি পুলিশের এসিপি (নর্থ) শেখ হাবিবুল্লাহ এ দিন সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি নিজেদের সোর্স ব্যবহার করে অভিযুক্তদের সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু করে। খুনের পর থেকেই পুলিশ জলপথ, স্থলপথ এবং রেলপথ, সব দিকেই নজরদারি বাড়িয়েছিল। তদন্তের কাজে হাওড়া সিটি পুলিশের একাধিক টিমকে ছোট ছোট দলে ভাগ করে বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়।

    ধৃতদের জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, প্রোমোটারকে খুন করার পরে অভিযুক্তরা হেঁটে জিটি রোডে আসে। সেখান থেকে ট্যাক্সিতে চেপে কলকাতায় পালিয়ে যায় এবং জোড়াসাঁকো এলাকায় এক পরিচিতের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। তারপরে বাসে চেপে তারা গার্ডেনরিচের বিচালি ঘাটে যায়। সেখান থেকে ট্যাক্সি ভাড়া করে তারা পৌঁছয় বাবুঘাট বাসস্ট্যান্ডে। বাবুঘাট থেকে একটি বাসে চেপে তারা সোজা চলে যায় বিহার শরিফে। বিহার শরিফ থেকে তারা বাসে করে সমস্তিপুরে যায়। সেখান থেকে ট্রেন ধরে তারা দিল্লি চলে যায়।

    দিল্লির জামা মসজিদ এলাকায় একটি বাড়িতে আত্মগোপন করে। শুরু থেকেই তদন্তকারীরা তাদের গতিবিধির উপরে নজর রাখছিল। রেল স্টেশন–সহ বিভিন্ন জায়গার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এবং মোবাইল টাওয়ার লোকেশন দেখে এ দিন সকাল ১১টা নাগাদ সেই গোপন ডেরায় আচমকা হানা দেয় হাও়ডা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। পালানোর আর পথ নেই দেখে দু'জনেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত দুই অভিযুক্তকে প্রথমে দিল্লির আদালতে পেশ করা হবে। সেখান থেকে ট্রানজি়ট রিমান্ডে তাদের হাওড়ায় নিয়ে আসার পরে সিআইডির হাতে হস্তান্তর করা হবে।

  • Link to this news (এই সময়)