অভ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, কাটোয়া
পৈতৃক ভিটে ও ঘরবাড়ি আগেই কেড়ে নিয়েছে নদী ভাঙন। এ বার যেন নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনকে ঘিরে।
ভাগীরথীর বন্যা ও ভাঙনে বহু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র হারিয়েছেন কাটোয়ার অগ্রদ্বীপের নদী তীরবর্তী এলাকার বহু পরিবার। অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (সার) পরে প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁদের অনেকেরই নাম নেই। নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র জলে ভেসে যাওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁদের।
ভাগীরথী কার্যত কাটোয়া-২ ব্লকের অগ্রদ্বীপ পঞ্চায়েতকে দু'ভাগে ভাগ করে দিয়েছে। একটি অংশ পূর্ব বর্ধমান জেলার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও অন্য অংশটি নদিয়া জেলার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত। অগ্রদ্বীপ অঞ্চলে মোট ১৮টি বুথ রয়েছে এবং ভোটার সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার। অভিযোগ, এদের মধ্যে ১২৯ জনের নাম বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন।
অগ্রদ্বীপের ১৮টি বুথের মধ্যে আটটি বুথ রয়েছে নদীর অন্য পাড়ে। এই আটটি বুথে মোট ভোটার সংখ্যা ৬,৭৮৭। এর মধ্যে ৭৮ জনের নাম সম্পূর্ণ ভাবে বাদ পড়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, এই আটটি বুথই ভাঙনপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত। এলাকায় গেলেই ভাগীরথীর ভয়াবহ ভাঙনের চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রায় ১,২০০ মিটার এলাকা ইতিমধ্যেই ভাঙনের কবলে পড়েছে।
অগ্রদ্বীপের ১৮৪ নম্বর বুথের বাসিন্দা বিজয় ঘোষ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত। অভিযোগ, তাঁর মা আতসী ঘোষের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। একই বুথের বাসিন্দা নমিতা ঘোষ ও তাঁর স্বামী অর্জুন ঘোষের নামও বাদ গিয়েছে। পাশাপাশি এলআইসি কর্মী সুবীর ঘোষ ও তাঁর ভাইয়ের নামও তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
সুবীর ঘোষ বলেন, 'আমি সাতটি নির্বাচনে মাইক্রো অবজার্ভার হিসেবে কাজ করেছি। সব নথিপত্র দেখানোর পরেও আমাদের পরিবারের সবার নাম বাদ পড়ে গেল।' ১৮৫ নম্বর বুথের মাঝেরপাড়া এলাকার বাসিন্দা ক্ষুদিরাম ঘোষ কয়েকদিন ধরেই দপ্তরে দপ্তরে ছোটাছুটি করছেন। বটতলায় তাঁর একটি ছোট চায়ের দোকান রয়েছে। অভিযোগ, তাঁর পরিবারের সবাই স্ত্রী সন্ধ্যা ঘোষ, ছেলে বংশী ঘোষ, নাতি বিশ্বজিৎ ঘোষ এবং মেয়ে দীপালী ঘোষের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।' অগ্রদ্বীপের বাসিন্দা জহর বাগ বলেন, 'স্ত্রী ও ছেলের নামও বাদ গিয়েছে। ১৯৯৫ থেকে ভোট দিয়ে আসছি। ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়েছি, এখন ভোটাধিকার হারাতে বসেছি।'