এই সময়, শিলিগুড়ি: আচমকা একসঙ্গে বেজে উঠল সমস্ত মোবাইল। অ্যালার্মের মতো বাজছে। কান ফাটানো সেই আওয়াজ। তার সঙ্গে মোবাইলে মেসেজ, ‘মিসাইল অ্যাটাক হয়েছে আবুধাবিতে। দ্রুত যাত্রীরা জানালা থেকে সরে যান। সম্ভব হলে এয়ারপোর্টের বেসমেন্টে চলে যান।’ মুম্বই থেকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্যারিসে (Paris) রওনা হয়েছিলেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটার শিলিগুড়ির (Siliguri) সুভাষ পল্লির অনুস্কা হাজরা। প্ল্যান ছিল, দিন ১৫ প্যারিস ও মিলানে ফ্যাশন উইক দেখে দেশে ফিরবেন। মুম্বই থেকে প্যারিসের কানেক্টিং ফ্লাইট রাতে। অনুস্কা আবুধাবি এয়ারপোর্টের (Abu Dhabi Airport) লাউঞ্জে বসেছিলেন। তার পরে এই ঘটনা।
তাঁর কথায়, ‘বুঝতেই পারছিলাম না যে কী করব! একা ট্রাভেল করছি। সঙ্গে লাগেজ রয়েছে। গোটা এয়ারপোর্ট কাঁচ দিয়ে ঘেরা। সবাই দৌড়চ্ছে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। লাগেজ নিয়ে আমিও অন্ধের মতো ছুটছি।’ সেদিন রাতে অবশ্য বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষ অনুস্কাকে রাত কাটানোর জন্য হোটেলের বন্দোবস্ত করে দেন। সেটা আর এক অভিজ্ঞতা।
রাতভর মিসাইলের (Missile) কান ফাটানো আওয়াজ। তার সঙ্গে মোবাইলে ্মুহূর্মুহ অ্যালার্ম বেজে উঠছে। ঘন ঘন মোবাইলে মেসেজ আসছে। হোটেল কর্মীরা পরামর্শ দিচ্ছেন, ঘরে নয়, লবিতেই থাকুন। প্রয়োজনে বেসমেন্টে চলে যান। রাত কেটে ভোর হল। ফের এয়ারপোর্ট (Airport) যাত্রা। আটক যাত্রীদের ভিড় দেখে অনুস্কার তখন মাথা খারাপ। ৭০০ লোকের পিছনে দাঁড়াতে হয়েছে। সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়েও ইউরোপগামী একটা প্লেনও মিলল না। তার পরে এটাই হয়ে গেল প্রতিদিনের রুটিন। সকালে এয়ারপোর্টে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানো। দিন শেষে হতাশ হয়ে ফিরে আসা। শিঁকে ছিঁড়ল বুধবার। চেন্নাইগামী একটি বিমানে মিলল আসন। অনুস্কা বলেন, ‘আমি আর দু'বার ভাবিনি। এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষকে ধরে চেন্নাইয়ের প্লেনে চড়ে বসি। চেন্নাই থেকে বৃহস্পতিবার সকালে বাগডোগরায় নেমে স্বস্তির শ্বাস ফেলছি।’
পশ্চিম এশিয়ায় ইজরায়েল,আমেরিকা-ইরান যুদ্ধে (Iran vs Israel-Usa War) আটকে পড়া ভারতীয়দের পরিস্থিতি নিয়ে প্রবল উৎকণ্ঠায় অনুস্কা। তাঁর অভিযোগ, ভারত সরকার বিমান বন্দর কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে (Middle East) আটকে পড়া ভারতীয়দের নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করছে না। তিনি নিজে একবার ফোন করেছিলেন। ভারতীয় দূতাবাস থেকে বলে দেওয়া হয়, আবুধাবি কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে চলুন। অনুস্কা বলেন, ‘বিমান বন্দরে বৃদ্ধ, বাচ্চারা আটকে রয়েছে। তাহলে আমাদের দেশের সরকার কী করছে? যাঁরা ফিরতে চান, তাঁদের ফেরানোর ব্যবস্থা করা হোক।’