প্রতারণার শিকার হলেন ব্যাংকেরই অবসরপ্রাপ্ত শীর্ষ আধিকারিক!
বর্তমান | ০৬ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: হ্যালো, স্যার! আমি ব্রাঞ্চ ম্যানেজার বলছি। কেওয়াইসি আপডেটের জন্য আপনার প্যানকার্ডের নম্বর প্রয়োজন! যে ফোন করেছে, সে প্রতারক। যাঁকে ফোন করা হয়েছে, তিনি আসলে ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত চিফ ম্যানেজার! কিন্তু, ব্যাংকের আধিকারিক হয়েও প্রতারকদের পাতা ফাঁদ ধরতে পারেননি তিনি। গড়গড় করে বলে দেন নিজের প্যানকার্ড নম্বর। ব্যস, কিছুক্ষণ পর মোবাইলে ঢুকতে থাকে পরপর মেসেজ। তিনি দেখেন, তাঁর ক্রেডিটকার্ড থেকে ৮টি ট্রানজাকশন হয়েছে। উধাও ২ লক্ষ ৫৯ হাজার টাকা! বুঝতে পারেন, ফোন করা ব্রাঞ্চ ম্যানেজার আসলে প্রতারক! তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন! প্রতারিত হয়ে তিনি সল্টলেকের বিধাননগর উত্তর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। শুরু হয়েছে তদন্ত।
অভিযোগকারী অবসরপ্রাপ্ত চিফ ম্যানেজার পুলিশকে জানিয়েছেন, ব্রাঞ্চ ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে যে ফোন করেছিল, সে তাঁর অ্যাকাউন্ট নম্বরটি জানায়। তাতে তিনি বিশ্বাস করে ফেলেন, সত্যিই ব্যাংক থেকে ফোন করেছে। তা না হলে অ্যাকাউন্ট নম্বর জানবে কোথা থেকে? সেই বিশ্বাসেই তিনি প্যানকার্ড নম্বর দিয়ে দেন। প্রতারণার পর তিনি ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ারে ফোন করে বিষয়টি জানান। তারপর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু, প্রতারণার ঘটনা এখানেই শেষ নয়। প্রতারিত ব্যাংক আধিকারিকের ছেলে বাইরে থাকেন। তিনি বাবাকে ফোন করে দেখেন, ফোন ব্যস্ত। তারপর বাড়ির অন্য নম্বরে ফোন করে জানতে পারেন, তিনি কারও সঙ্গে কথাই বলেননি। এরপর ছেলে আবার ওই নম্বরে ফোন করেন। তখন অজ্ঞাত পরিচয় একজন ফোন তুলে কথাও বলে। তারপরই তাঁরা বুঝতে পারেন, ফোন হ্যাক হয়েছে। সিমকার্ড কোম্পানির আউটলেটে গিয়ে তিনি ফোন নম্বরটিও ব্লক করান।
তবে, কীভাবে তাঁর ফোন হ্যাক হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্ত শুরু হয়েছে। সাইবার বিশেষজ্ঞদের দাবি, পরিচিত ডট এপিকে ফাইল বা অজানা লিঙ্কে ক্লিক করলে ফোন হ্যাক হতে পারে। এই ঘটনার ক্ষেত্রে কী হয়েছে, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।