পুলিশে চাকরির টোপে ৯ লক্ষ টাকা খোয়ালেন বধূ, অভিযুক্ত মোটর ট্রেনিং স্কুলের প্রশিক্ষক ও সহযোগী
বর্তমান | ০৬ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সংসারে টানাটানি। যে কোনও উপায়ে আয়ের উৎস খুঁজছে পরিবার। ছেলে প্রাপ্তবয়স্ক হলেও মেলেনি চাকরি। চেষ্টা করছেন তিনি। কিন্তু, রোজগার না হলে তো খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে! তাই নিজেই আয়ের পথ খুঁজতে মোটর ট্রেনিং স্কুলে গাড়ি চালানো শিখতে শুরু করেন সরশুনার গৃহবধূ। ঠিক করেন, অ্যাপ ক্যাব চালিয়ে সংসার টানবেন নিজেই। সেখানেই বিপত্তি!
মোটর ট্রেনিং স্কুলে এক জনৈকের সঙ্গে আলাপ হয় গৃহবধূর। কলকাতা পুলিশে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার টোপে পা দিয়ে প্রতারিত হলেন ওই মহিলা। খোয়ালেন ন’লক্ষ টাকারও বেশি। অভিযোগ, কনস্টেবল পদে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে দফায় দফায় বিপুল টাকা আত্মসাৎ করে মোটর ট্রেনিং স্কুলের প্রশিক্ষক ও তাঁর এক সহযোগী। দু’জনের বিরুদ্ধেই বৃহস্পতিবার সরশুনা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন গৃহবধূ। লালবাজার জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তে নেমেছে পুলিশ। যদিও বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত এই মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
চলতি বছরের শুরুতে ঘটনার সূত্রপাত। সরশুনা এলাকার একটি মোটর ট্রেনিং সেন্টারে গাড়ি চালাতে শিখতে যান গৃহবধূ। সেখানেই প্রশিক্ষক বিশ্বনাথ সাহার সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সাংসারিক অনটন নিয়েও আলোচনা হয় দু’জনের। অভিযোগ, কথাবার্তার চলাকালীন টাকার বিনিময়ে পুলিশে চাকরি সম্ভব বলে আশ্বাস দেন বিশ্বনাথ। ছেলেকে কনস্টেবলের চাকরি পাইয়ে দিতে তদ্বির করেন গৃহবধূ। সেই মতো প্রশিক্ষকের এক সহযোগীর সঙ্গে মহিলাকে দেখা করানো হয় বলে দাবি। তার নাম সৌমেন সাহা রায়। অভিযোগকারিণী পুলিশকে জানিয়েছেন, সৌমেন নিজেকে লালবাজারের কর্মী বলে পরিচয় দেয়। পুলিশের বড়ো কর্তাদের সঙ্গে ওঠাবসা রয়েছে বলেও দাবি করে সে। আশ্বস্ত হয়ে সরল বিশ্বাসে সৌমেনের কথা মেনে নেন গৃহবধূ। অভিযোগ, প্রাথমিকভাবে ৬ লক্ষ টাকা দেন তিনি। কিছুটা নগদে, কিছুটা অনলাইনে। মহিলার দাবি, ধার নিয়ে ছেলের চাকরির জন্য টাকা জোগাড় করেন তিনি। কিন্তু, সেই টাকা পাওয়ার পরই নানা ফন্দিফিকির শুরু হয়। সৌমেন জানায়, ‘এই মুহূর্তে কনস্টেবলের কোনও পদ খালি নেই। আরও তিন লক্ষ টাকা দিলে সাব ইনসপেক্টর পদে চাকরি পাকা। সেই চাকরি পেলে রোজগারও অনেক বেশি’। মহিলার দাবি, সেই টাকাও নগদে দিয়েছিলেন তিনি। পরে পুলিশের চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পাইয়ে দেওয়ার নাম করে আরও ৩৬ হাজার টাকা চাওয়া হয়। তখনই খটকা লাগে। তারপর থেকেই অভিযুক্তের ফোন বন্ধ বলে পুলিশকে জানিয়েছেন অভিযোগকারিণী। এই মর্মে তিনি সাউথ-ওয়েস্ট ডিভিশনের ডিসিকেও অভিযোগপত্র দিয়েছেন।