• দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশায় নদীবাঁধ, উদ্বেগে গ্রামবাসী
    বর্তমান | ০৬ মার্চ ২০২৬
  • সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে নামখানার হরিপুর এলাকার তেঁতুলঘাটে নদীবাঁধের প্রায় ৪০০ মিটার অংশ। এদিকে আর কিছুদিন পরেই আসবে বর্ষাকাল। তখন কী হবে, এই ভেবে উদ্বেগে রয়েছেন এই এলাকার বাসিন্দারা। জানা গিয়েছে, প্রায় ৩৫ বছর আগে সপ্তমুখী নদীর এই বাঁধের নীচের অংশটি ইট বিছিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। তার উপরে ফেলা হয়েছিল মাটি। এরপর কেটে গিয়েছে বহু বছর। অতীতে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় প্রায় চারবার এই নদীবাঁধটি ভেঙেছে। তখন সব মিলিয়ে এই এলাকার কয়েক হাজার বাসিন্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। তড়িঘড়ি মাটি ফেলে অস্থায়ীভাবে বাঁধটির মেরামতি করা হয়েছিল। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, মাঝেমধ্যে এই নদীবাঁধে কয়েক ঝুড়ি করে মাটি ফেলা হয়েছে। কিন্তু স্থায়ীভাবে বাঁধ মেরামতির কোনো পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি।

    এবিষয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা মৃন্ময় দাস বলেন, দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর ধরে নদী বাঁধটি বেহাল হয়ে পড়ে আছে। বিভিন্ন দপ্তরে জানিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি। প্রতিবারই নির্বাচনের সময় স্থায়ী নদীবাঁধ তৈরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে তা পালন করা হয় না। অথচ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এই সপ্তমুখী নদী ভয়াবহ রূপ নেয়। যদি বাঁধটি ভেঙে যায়, তাহলে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই এখানে স্থায়ীভাবে কংক্রিটের নদীবাঁধ তৈরি করার প্রয়োজন রয়েছে।

    এই প্রসঙ্গে নামখানা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অভিষেক দাস বলেন, নদীবাঁধ মেরামত করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার একটি টাকাও দেয় না। রাজ্য সরকার নিজস্ব অর্থে বাঁধগুলির মেরামতি করে। বর্ষার আগের মরশুমে ওই নদীবাঁধ মেরামতের কাজ করা হয়েছে। এবার স্থায়ীভাবে নদীবাঁধ নির্মাণ করার জন্য সেচদপ্তর একটি পরিকল্পনা নিয়েছে। আশা করা যায় রাজ্য সরকারের উদ্যোগে খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)