• রাজ্যের অর্থেই পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন পশ্চিমবঙ্গে: অমিত মিত্র
    বর্তমান | ০৬ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পরিবেশবান্ধব এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে একগুচ্ছ পদক্ষেপ করেছে বাংলা। সেই তালিকায় যেমন আছে সুন্দরবনের চিংড়ি চাষ প্রকল্প, তেমনই রয়েছে পরিবেশবান্ধব পরিবহণ ব্যবস্থা। বৃহস্পতিবার বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এমনই দাবি করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্য অর্থদপ্তরের প্রধান মুখ্য উপদেষ্টা অমিত মিত্র। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের অনুদানে নয়, রাজ্য নিজের ভাঁড়ার থেকেই এই প্রকল্পগুলি হাতে নিয়েছে।

    এদিন অমিতবাবু জানান, সুন্দরবনে তাঁরা ৮০০ কিমি খাল খুঁড়েছেন, যেখানে মিষ্টি জল ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। এই জলে গলদা চিংড়ির চাষ হচ্ছে, যা এলাকার অর্থনীতিতে বড়ো ভূমিকা নিয়েছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি এতে বিশেষভাবে উপকৃত হচ্ছে। এদিন তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, রাজ্য থেকে বছরে প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের চিংড়ি রপ্তানি হয় বিদেশে। এদিন রাজ্যের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলায় বর্তমানে ২ লক্ষ ৬২ হাজার ৬২০টি গাড়ির রেজিস্ট্রেশন হয়েছে, যেগুলিতে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহৃত হয়। সেই তালিকায় আছে ৭৫ হাজার স্কুটার, ১ লক্ষ ৬৩ হাজার ই রিকশ, ১৮ হাজার মোটর গাড়ি। রাজ্যে রয়েছে ৮০৫টি চার্জিং স্টেশন। বর্তমানে ৩ হাজার ৭৬৩ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা আসতে চলেছে রাজ্যে। এর মধ্যে বেশকিছু প্রকল্প ইতিমধ্যেই চালু হয়ে গিয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রকল্প গড়ে উঠতে চলেছে।

    অমিতবাবুর দাবি, রাজ্য সরকারের ‘মাটির সৃষ্টি’ প্রকল্পের মাধ্যমে পশ্চিমাঞ্চলের ৪২ হাজার একর অনুর্বর জমিতে কৃষিকাজ ও অন্যান্য অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ হচ্ছে, যা মূলত স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের হাতে পরিচালিত হচ্ছে। ৪৩ হাজার একর জমিতে ‘জল ধরো জল ভরো’ প্রকল্প চালু হয়েছে, যার মাধ্যমে ক্ষুদ্রসেচ ব্যবস্থা জোরদার হয়েছে। যেখানে সরকার ৫০ হাজার জলাশয়কে এই প্রকল্পের আওতায় আনার প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল, তা বর্তমানে পাঁচ লক্ষ জলাশয়ে সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছেন অমিতবাবু। তিনি বলেন, এই সুন্দরবনের প্রকল্পের পরিকাঠামোগত কিছু ক্ষেত্রে বাইরে থেকে আর্থিক সহায়তা এসেছে। কিন্তু বাকিটা রাজ্য সরকার নিজেই খরচ করেছে। এক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যকে বঞ্চনায় কোনো খামতি রাখেনি, বুঝিয়েছেন তিনি।
  • Link to this news (বর্তমান)