কলকাতা থেকে সড়কপথে উত্তরবঙ্গ যাওয়ার লাইফলাইন হলো NH-12। কিন্তু মধ্যমগ্রাম এবং বারাসতের যানজটের জেরে চরম নাকাল হতে হয় যাত্রীদের। নবনির্মিত কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে (Kalyani Expressway) এ বার সেই যানযন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে চলেছে। এয়ারপোর্ট (Airport) থেকে এবার ৪০ মিনিটেই কাঁচরাপাড়া হয়ে জাতীয় সড়কে যাওয়া যাবে। পড়তে হবে না যানজটের মুখে, যাত্রা হবে মসৃণ।
শুধু তাই নয়, কল্যাণী এইমসে (AIIMS) যাতায়াতের ক্ষেত্রেও এই এক্সপ্রেসওয়ে অন্যতম ভরসা। বিশেষ করে রাজারহাট, নিউ টাউন, বারাসত, এয়ারপোর্ট-সহ আশেপাশের বাসিন্দারা জাতীয় সড়ক (NH-12) ধরেই এইমসে যাতায়াত করতেন। এ বার তাঁরাও খুব সহজেই এইমসে পৌঁছতে পারবেন কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে ধরে।
কী কী সুবিধা মিলছে?
কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে নবরূপে সজ্জিত হওয়ায় বিশেষ করে দমদম বিমানবন্দর (DumDum Airport) থেকে AIIMS কল্যাণী (Kalyani) কিংবা নদিয়া ও সংলগ্ন জেলাগুলির দিকে যাতায়াতের ক্ষেত্রে এই রাস্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। কাঁপা মোড় থেকে জাগুলি ধরে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করেই সময় বাঁচানো যাবে। এতে দুই প্রান্তের মানুষের যাতায়াতে যেমন সুবিধা বাড়বে, তেমনই দ্রুত ও সিগন্যালমুক্ত চলাচলের কারণে দুর্ঘটনার সংখ্যাও ধীরে ধীরে কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই দ্রুতগতির এক্সপ্রেসওয়েতে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট (Barrackpore Police Commissionerate)। ফলে ভবিষ্যতে এই এক্সপ্রেসওয়ে উত্তর ২৪ পরগনা ও সংলগ্ন জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করছে প্রশাসন। এই বিষয়ে নদিয়ার এক গাড়ির চালক প্রবীর দাস বলেন, ‘এই এক্সপ্রেসওয়ে খুলে দেওয়ার ফলে কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, হুগলি, নদিয়ার মতো চারটি জেলার সংযোগকারী রাস্তা দিয়ে এইমসে (AIIMS) আসার পথ আরও সহজ হল। এতদিন সার্ভিস রোড দিয়ে আসতে গিয়ে অনেক সময় লাগতো। তার উপরে রাস্তা খারাপ। কল্যাণী এইমসে আসার জন্য এইরকম উপযোগী রাস্তার প্রয়োজন রয়েছে। যে হেতু অনেক রোগী থাকেন, তাঁদের দ্রুত পৌঁছতে হই।’
এই রাস্তায় রয়েছে ২১টি ফ্লাইওভার (যেগুলি সিগন্যাল মুক্ত), সাতটি বড় আন্ডারপাস ও ছ’টি ছোট আন্ডারপাস। এ ছাড়া আছে ৭০টি কালভার্ট, একটি ট্রাক লে বাই এবং ৫৬টি যাত্রী প্রতীক্ষালয়। গাড়িচালক ও যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে তৈরি হয়েছে পাঁচটি আধুনিক শৌচালয়ও। এই রাস্তাটি একদিকে নিমতা অঞ্চলে Belgharia Expressway-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। অন্য দিকে, বড় জাগুলিয়ায় National Highway 12-এর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে।
যানজট দূর হবে?
উত্তর ২৪ পরগনা ও সংলগ্ন জেলাগুলির যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনবে এই নবরুপে নির্মিত কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে। বারাসত পুলিশ জেলা ডিএসপি ট্র্যাফিক নীহার রঞ্জন রায়ের মতে, ‘আগে জেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছতে যেখানে কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যেত। এখন সিগন্যালবিহীন আধুনিক ও মসৃণ রাস্তায় অনেক কম সময়ে সেই পথ অতিক্রম করা সম্ভব হবে। ফলে সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে পণ্যবাহী যানবাহন সব ক্ষেত্রেই যাতায়াত আরও সহজ ও দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
টোল প্লাজ়া নিয়ে সমস্যা?
এই এক্সপ্রেসওয়েতে একটি টোল প্লাজ়া রয়েছে। কিছু যানবাহন টোল-এর খরচ এড়াতে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করবে কি না, সেদিকেও নজর রাখছে প্রশাসন। কিছুদিন গেলে তা বোঝা যাবে। যদিও ট্র্যাফিক আধিকারিকদের ধারণা, সময় বাঁচানোর সুবিধার কথা মাথায় রেখে অধিকাংশ চালকই টোল দিয়েই এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করবেন। এক বেসরকারি বাসের চালক বলেন, ‘যাত্রী বুকিং এর উপর নির্ভর করে কোন রাস্তা দিয়ে সেইদিন বাস নিয়ে যাব। যদি বারাসাতে যাত্রী বুকিং থাকে তা হলে সোজা জাতীয় সড়ক ১২ (NH-12) ধরেই যেতে হয়, সে ক্ষেত্রে যানজটের জন্য সময় অনেকটাই বেশি লাগে, আর যেদিন বারাসতে বুকিং থাকে না সেই দিন মধ্যমগ্রাম থেকে সোদপুর রোড ধরে মুরাগাছা হয়ে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে (Kalyani Expressway) ধরা যায়।’ ২ মার্চ সোমবার দোলের আগের দিন এই নবরূপে নির্মিত কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এই এক্সপ্রেসওয়ে কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গে যাওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম লাইফলাইন হতে চলেছে।