ট্র্যাফিক পুলিশের (Traffic Police) জন্য নির্মিত বুথ, অথচ দীর্ঘদিন ধরেই পড়ে রয়েছে অবহেলায়। নজরদারির অভাব, আর সেই বুথের মধ্য থেকেই মৃতদেহ উদ্ধার! যাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার চাঞ্চল্য ছড়াল জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) ধূপগুড়িতে।
এ দিন ধূপগুড়ি থেকে জলপাইগুড়িগামী ৪৮ নম্বর এশিয়ান হাইওয়ের (Asian Highway) মাঝে থাকা জেলা পুলিশের ট্র্যাফিক অ্যাসিস্ট্যান্ট বুথের ভিতরে এক ভবঘুরেকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি জানানো হয় ধূপগুড়ি ট্র্যাফিক পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের। খবর পেয়েই সেখানে পৌঁছন ধূপগুড়ি থানার পুলিশ, ট্রাফিক গার্ড-সহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। মৃত ভবঘুরেকে উদ্ধার করে তাঁরা। তার নাম-পরিচয় এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
কিন্তু কী ভাবে ট্র্যাফিক পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট বুথে ঢুকে পড়ল ওই ভবঘুরে? বিষয়টি নিয়ে ধূপগুড়ির এসডিপিও অরিন্দম পাল চৌধুরী জানান, ‘কোনও কারণে ওই ট্র্যাফিক অ্যাসিস্ট্যান্ট বুথের তালা খোলা ছিল। সেখানেই ওই ভবঘুরে ঢুকে পড়ে। এলাকাবাসীরা মৃত অবস্থায় ওই ভবঘুরেকে দেখতে পায়। মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। কী ভাবে ওই ট্র্যাফিক অ্যাসিস্ট্যান্ট বুথের তালা খোলা ছিল, কার গাফিলতি রয়েছে, সবটা খতিয়ে দেখা হবে।’
ধূপগুড়ি শহরে পুরসভার তরফে ভবঘুরেদের থাকার জন্য আলাদা করে ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার পরেও কী ভাবে ট্র্যাফিক পুলিশের বুথে ওই ভবঘুরে প্রবেশ করল? প্রশ্ন উঠছে। ওই ভবঘুরের মৃত্যু স্বাভাবিক নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এই বিষয়ে এলাকার ব্যবসায়ী আশরাফুল আলম বলেন, 'সকালে লোকজনের ভিড় দেখে এগিয়ে এসে দেখি বুথের ভিতরে একজন ব্যক্তি পড়ে রয়েছেন মৃত অবস্থায়। অনেকেই বলছিলেন তিনি বেশ কিছুদিন ধরেই এখানে থাকতেন।' প্রত্যক্ষদর্শী মনোজ তিওয়ারি জানান, 'প্রথমে মনে হয়েছিল লোকটি অসুস্থ হয়ে শুয়ে আছেন। পরে বুঝতে পারি তিনি আর বেঁচে নেই। এর পরেই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।'