এক সপ্তাহ ধরে চলছে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ। গত শনিবারই আমেরিকা-ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় প্রাণ গিয়েছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের। তবে প্রথম কয়েকদিন এই বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেই ছিল ভারত সরকার। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও বলছিলেন, ভারতের বর্তমান অবস্থান বড়ই ইজ়রায়েল ঘেষা। এই অবস্থায় বৃহস্পতিবার ইরানের দূতাবাসে গিয়ে খামেনেইয়ের মৃত্যুর কন্ডোলেন্স বুকে স্বাক্ষর করেছিলেন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি। তবে এরই ফাঁকে একপ্রকার গোপনেই ভারতের কোচি বন্দরে নোঙর করেছে ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস লাভান’ (IRIS Lavan)।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আঁচ ইতিমধ্যেই ভারত মহাসাগরের নীল জলে এসে পড়েছে। গত বুধবারই শ্রীলঙ্কার দক্ষিণে আন্তর্জাতিক জলসীমায় আমেরিকার সাবমেরিন থেকে ছোঁড়া টর্পেডোর আঘাতে সলিল সমাধি ঘটেছিল ইরানের অত্যাধুনিক রণতরী ‘আইআরআইএস ডেনা’-র। ভারতের মিলন ২০২৬ নৌমহড়ায় অংশ নেওয়ার পরে সেটি ইরানে ফিরছিল। এই ঘটনায় মৃত্যু হয় অন্তত ৮৭ জন ইরানি নৌসেনা সদস্যের।
ওই একই দিনে ইরানি নৌসেনা সদস্যদের প্রাণ বাঁচাতে ভারতের শরণাপন্ন হয়েছিল তেহরান বলে জানা গিয়েছে। ‘আইআরআইএস লাভান’ যাতে কোচি বন্দরে নোঙর করতে পারে, সেই বিষয়ে নয়াদিল্লির কাছে বিশেষ অনুরোধ জানায় তারা।
এর পরে ভারত সরকার সবুজ সঙ্কেত দিতেই, ওই দিনই কোচি বন্দরে ভিড়েছে এই ইরানি যুদ্ধজাহাজটি। সংবাদ সংস্থা PTI এবং AFP-র রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে রণতরীটিতে থাকা ১৮৩ জন ক্রু সদস্যের জন্য কোচির ভারতীয় নৌবাহিনীর বিশেষ ঘাঁটিতে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অন্যদিকে এদিনই শ্রীলঙ্কার জলসীমার ঠিক বাইরে নোঙর করেছে আরও এক ইরানি যুদ্ধজাহাজ, ‘আইআরআইএস বুশেহর’। রণতরীটি থেকে প্রায় ২০০ জন ইরানি নৌসেনা সদস্যকে স্থলভাগে নিয়ে এসেছে শ্রীলঙ্কার নৌসেনা। তাদের ওয়েলিসারা নৌ ঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জাহাজটিতে ত্রুটি থাকায় সেটিকে ত্রিনকোমালি বন্দরে নিয়ে যাওয়া হবে মেরামতের জন্য।
খামেনেইয়ের মৃত্যুতে দেরি করে হলেও শোকবার্তা জানানো, ইরানি যুদ্ধজাহাজ ও নৌসেনা কর্মীদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া— ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আমেরিকা-ইজ়রায়েল যখন ইরানকে কোণঠাসা করতে মরিয়া, তখন ভারতের বন্দরে ইরানি রণতরীর নোঙর করা নয়াদিল্লির এক কৌশলী চাল বলে মনে করা হচ্ছে। ভারত কি তবে এই বিশ্বযুদ্ধের আবহে ফের যুযুধান দুই পক্ষের মধ্যে ভারসাম্য রেখে চলার চেষ্টা করছে? উত্তর খুঁজছে আন্তর্জাতিক মহল।