• পাশে আছি! সংকল্প যাত্রা থেকে বার্তা পদ্ম–কর্মীদেরও
    এই সময় | ০৭ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’ থেকে বিজেপি নেতৃত্ব শুধু বাংলার ভোটারদের নয়, দলের নিচুতলার কর্মীদেরও বার্তা দিতে চাইছেন। তাঁদের লক্ষ্য, এই কর্মসূচিকে সামনে রেখে পার্টির নিষ্ক্রিয় কর্মীদের সক্রিয় করা এবং দলের সর্ব স্তরের কর্মীদের ‘পাশে থাকা’র বার্তা দেওয়া। আর সে কারণেই সব জেলায় প্রতিদিন যাত্রা শুরু হচ্ছে সংশ্লিষ্ট এলাকার নিহত দলীয় কর্মীদের ছবিতে মালা দিয়ে। ‘শহিদ’ পরিবারের সদস্যদেরও যাত্রায় সামিল করানোর চেষ্টা করছেন বঙ্গ–বিজেপি নেতৃত্ব।

    রাজ্যের ন’টি সাংগঠিনক জ়োন থেকে গত ১ মার্চ ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’ শুরু করেছে বিজেপি। ২০২১–এর বিধানসভা ভোটের পরে নানা কারণে ‘বসে যাওয়া’ পুরোনো কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাত্রায় অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে এসেছেন বিভিন্ন জে‍লার বিজেপি নেতারা। সূত্রের খবর, সেই ডাকে সাড়া দিয়ে তাঁদের বেশিরভাগই পরিবর্তন যাত্রায় অংশ নিচ্ছেন। ‘সৌজন্য’ দেখিয়ে সেই পুরোনো নেতা–কর্মীদের যাত্রায় সামনের সারি ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের দাবি। দলের এক বর্ষীয়ান নেতার কথায়, ‘এই যাত্রার লক্ষ্য শুধু বাংলায় সরকার পরবির্তন নয়, গত কয়েক বছর ধরে পার্টির পুরোনো নেতা–কর্মীদের কোণঠাসা করার যে সংস্কৃতি কায়েম হয়েছি‍ল, তারও পরিবর্তন করা। দলের পুরোনো এবং নতুন নেতা–কর্মীরা যাত্রার সামনের সারিতে হাতে হাত ধরে হাঁটছেন। এটাই বিজেপির পরিবর্তন সংকল্প যাত্রার সব থেকে বড় সাফল্য।’

    পরিবর্তন যাত্রা উপলক্ষে প্রতিদিনই বাংলায় আসছেন বিজেপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা। যা নিয়ে ধর্মতলার মঞ্চ থেকে কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের আনাগোনাকে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, ‘বিজেপি চড়বে রথে, আমরা থাকব পথে। বিপদের সময়ে তৃণমূলই পাশে থাকে। করোনার সময়ে নরেন্দ্র মোদী এসেছিলেন? এখন উত্তরাখণ্ড, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীদের আসা–যাওয়া চলছে!’ তাঁর কটাক্ষ, ‘তবে বিজেপির এই যাত্রাগুলিতে এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) হয়ে গিয়েছে! কারণ, যে দু’পাঁচটা লোক আগে বিজেপির সভায় থাকতেন, তাঁরাও নেই।’ মমতা বলেন, ‘বিজেপির বিলাসবহুল বাস চলেছে। সেখানে থাকা–খাওয়ার ব্যবস্থা, বাথরুম সব কিছু রয়েছে।’ সূত্রের খবর, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা যে এলাকাগুলিতে সভা করছেন, সেখানেই পা‍ল্টা সভা শুরু করেছে তৃণমূল।

    শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড়ের সভায় হাজির ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং। সঙ্গে ছিলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁরা দু’জনেই এ দিন নারায়ণগড়ের সভা থেকে একযোগে হিন্দুত্বের অস্ত্রে শাণ দিয়েছেন। হাওড়ার বালিতে পরিবর্তন যাত্রায় অংশ নেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা মনোজ তিওয়ারি। আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামে পরিবর্তন সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, আলুপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গা, জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত রায়–সহ স্থানীয় বিজেপির বিধায়ক ও দলীয় কর্মীরা। সুকান্ত বলেন, ‘বিজেপি ক্ষমতায় এলে সেতু, রেলপথ ও সড়ক পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ হবে। এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া চা বাগানগুলি ফের চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। যাতে হাজার হাজার শ্রমিকের জীবিকা সুরক্ষিত হয়।’ পুরুলিয়ার পরিবর্তন যাত্রায় এ দিন তৃণমূল–বিজেপি সংঘর্ষ বাধে। অভিযোগ, এতে ছ’জন বিজেপি নেতা–কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। দু’টি গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। গণ্ডগোল থামাতে গিয়ে কয়েকজন পুলিশকর্মীও জখম হয়েছেন বলে খবর। মুর্শিদাবাদের বড়ঞায় বিজেপির ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’কে ঘিরে শুক্রবার ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। যাত্রা শুরুর পরে জালিবাগান এলাকায় বিজেপির কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দেয় বলে অভিযোগ। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির নেতা–কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের বচসায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। বীরভূমের কীর্ণাহারেও বিজেপির এই কর্মসূচিতে অশান্তি বাধে। এ দিন লাভপুর থেকে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা যাচ্ছিল নানুরের দিকে। সেই সময়ে বিজেপি কর্মীদের ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনির পাল্টা তৃণমূল কর্মীদের ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে শোনা যায়। তা নিয়েই দু’পক্ষের বচসা হাতাহাতিতে গড়ায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিউ টাউনেও বিজেপির পরিবর্তন যাত্রায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

  • Link to this news (এই সময়)