এই সময়: অমিত শাহ গত সোমবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘিতে বিজেপির ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’র সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেছিলেন। তৃণমূল জমানার দুর্নীতি নিয়েও সরব হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলে শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না কর্মসূচি থেকে পাল্টা শাহকে আক্রমণ করলেন অভিষেক। রায়দিঘিতে আগামিকাল, রবিবার, অভিষেক বড় জনসভা করে শাহের প্রত্যেকটি অভিযোগের উত্তর দেবেন বলে তৃণমূল সূত্রের খবর। সেই সভার আগে মেট্রো চ্যানেলের ধর্নামঞ্চ থেকে অমিত শাহর একাধিক অভিযোগকে খণ্ডন করেছেন তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, ‘অমিত শাহ এলে সভা শুরু হয় আমার নাম নিয়ে, সভা শেষ হয় আমার নাম নিয়ে। বিজেপির ছোট–বড় সব নেতার গায়ে জ্বালা আমাকে নিয়ে।’ অমিত শাহ তৃণমূল জমানার দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়েছিলেন। অভিষেক পাল্টা এ দিন বলেন, ‘তৃণমূল নাকি দুর্নীতিগ্রস্তদের দল। দুর্নীতিতে যাদের নাম রয়েছে, তারা বিজেপিতে গেলেই ওয়াশিং মেশিনে ঢুকে সব ধোয়া তুলসী পাতা হয়ে যায়! আমাদের দলের মন্ত্রী–সাংসদ–বিধায়ক–পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে দলের কাছে কোনও অভিযোগ এলে আমরা ব্যবস্থা নিই। সেখানে বিজেপি (দুর্নীতিগ্রস্তদের) পুরস্কার দেয়। কাউকে মুখ্যমন্ত্রী করে, কাউকে বিরোধী দলনেতা করে।’
কিছু দিন আগে কলকাতার বিজেপি কাউন্সিলার সজল ঘোষ প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কুরুচিকর মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। একটি সংবাদমাধ্যমে সৌরভকে বিজেপির এই কাউন্সিলার ‘দালাল’ বলে দুষেছিলেন। সে নিয়ে বিতর্কও হয়। যদিও পরে সজল বিবৃতি দেন, ওই মন্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত অভিমত ছিল, দলের বক্তব্য নয়। তবে সজলের বিরুদ্ধে বিজেপি কোনও পদক্ষেপ করেছে এমন খবর নেই। এই প্রেক্ষপটে শাহকে কটাক্ষ করেছেন অভিষেক। ২০২১–এর ভোটের আগে অমিত শাহ রাজ্য বিজেপির নেতৃত্বকে নিয়ে সৌরভের বাড়িতে গিয়েছিলেন।
সেই সৌরভকে বিজেপির কাউন্সিলার বিতর্কিত মন্তব্য করায় অভিষেক এ দিন বলেন, ‘যাঁরা পিঠ বাঁচাতে গিয়েছে বিজেপিতে, তাঁরা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে বলছে দালাল! যদি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় দালাল হন, ২০২১–এ শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষকে নিয়ে সৌরভের বাড়িতে অমিত শাহ গিয়েছিলেন কেন? এই প্রশ্ন বাঙালি জিজ্ঞেস করবে। অমিত শাহর কী দালালি ছিল? বেহালায় গিয়ে সুড়সুড় করে গাড়ি থেকে নেমে বাড়িতে ঢুকে ডাইনিং টেবিলে বসে লুচি–আলুর দম খেয়ে ফিরে এল! সৌরভকে তল্পিবাহক আর ক্রীতদাস বানাতে গিয়েছিল, তা হয়নি।’ যদিও বিজেপির এক প্রবীণ নেতার পাল্টা কটাক্ষ, ‘উনি (অভিষেক) এত কথা বললেন, কিন্তু নিজেদের দলের দুর্নীতি নিয়ে কিছু বললেন না কেন? ওঁদের দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা–মন্ত্রীদের আর টিকিট দেওয়া হবে না— সেটাও কি বুক বাজিয়ে উনি বলতে পারবেন?’