এই সময়: '২২ বছরের শিক্ষকতায় দিন কাটে মোর ভিক্ষা ভাতায়' — বেতন বৃদ্ধির দাবিতে হাতে এ রকম প্ল্যাকার্ড নিয়ে শুক্রবার ধর্মতলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না মঞ্চের সামনে আচমকাই বিক্ষোভ দেখান কয়েকজন পার্শ্বশিক্ষক ও শিক্ষিকা। মঞ্চে বসে বিষয়টি নজরে আসে মমতার। তবে এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, 'শান্ত হয়ে থাকতে পারলে থাকবেন। এখানে রাজনীতি করবেন না। বিজেপির কথায় এ সব করবেন না। এই জায়গা খোলামেলা বলে ভাববেন না, যা কিছু করা যাবে। প্রধানমন্ত্রী মোদী, শাহকে (কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) দেখান। ভ্যানিশ কুমারকে দেখান।' তারপরই তিনি পুলিশের উদ্দেশে বলেন, 'ওদের আস্তে আস্তে অন্য জায়গায় বসিয়ে দিন।' এরপরই বিক্ষোভকারীদের আটক করে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ।
চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বিধানসভায় যে অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করেছিলেন, তাতে রাজ্যে সমগ্র শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত ৯০ হাজার পার্শ্বশিক্ষক, শিক্ষাবন্ধু, সহায়ক/সহায়িকা, সম্প্রসারক, মুখ্য সম্প্রসারক–সহ স্পেশাল এডুকেটর এবং ম্যানেজমেন্ট স্টাফদের জন্য মাসিক হাজার টাকা ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব ছিল। যদিও পার্শ্বশিক্ষকদের দাবি, ভোটের আগে এই ভাতা বৃদ্ধি আসলে শিক্ষাকর্মীদের ভিক্ষা দেওয়ার সামিল। সেই অভিযোগে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পার্শ্বশিক্ষকেরা আদালতের নির্দেশে বিকাশ ভবনের অদূরে লাগাতার অবস্থান বিক্ষোভে বসেছেন। স্থায়ীকরণ ও বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বৃহস্পতিবার কালীঘাট অভিযানের ডাক দিয়েছিল 'পার্শ্বশিক্ষক ঐক্য মঞ্চ'। শিয়ালদহ থেকে তাঁদের মিছিল কলেজ স্ট্রিট আসার পরেই পুলিশ আটকে দেয়। এক পার্শ্বশিক্ষিকার দাবি, ২০০৯ সালে তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা তাঁদের আন্দোলনের মঞ্চে এসে স্থায়ীকরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ২০১১–য় মন্ত্রিসভার বৈঠকে ধাপে ধাপে স্থায়ীকরণের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তার পরে ১৫ বছর কেটে গেলেও সুরাহা হয়নি।
২০২৪–এর ১ মার্চ শিক্ষা দপ্তরের তরফে পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব গিয়েছিল নবান্নে। সেখানে প্রাথমিকে পার্শ্বশিক্ষকদের ২৮ হাজার টাকা, উচ্চ প্রাথমিকে ৩২ হাজার টাকা বেতন ধার্য করা হয়েছিল। কিন্তু তা এখনও 'ঠান্ডা ঘরে'। পার্শ্বশিক্ষকেরা প্রভিডেন্ট ফান্ড, চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যু হলে আর্থিক সাহায্য ও পরিবারের সদস্যদের চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থা-সহ বেশ কিছু দাবি তুলেছেন।