• চিকিৎসা–বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণে পৃথক ব্যবস্থা করছে কলকাতা পুরসভা
    এই সময় | ০৭ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: চিকিৎসা–বর্জ্য বা বায়োমেডিক্যাল ওয়েস্ট প্রক্রিয়াকরণে কলকাতায় একটি পৃথক ব্যবস্থা চালু করতে চায় কলকাতা পুরসভা। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিংহোম, ডায়গনস্টিক সেন্টার, প্যাথ ল্যাব ইত্যাদি সব মিলিয়ে রাজ্যের মোট ৩২ হাজার চিকিৎসা ও রোগনির্ণয় কেন্দ্র থেকে সংগৃহীত চিকিৎসা–বর্জ্যকে পৃথক ও রাসায়নিক পদ্ধতিতে বিনষ্ট করার লক্ষ্যে এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩০ হাজার শয্যাবিশিষ্ট সরকারি–বেসরকারি হাসপাতাল। বাকি দু’ হাজার শয্যাবিহীন স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্র। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প রূপায়ণের জন্য একটি ডিটেলস প্রজেক্ট রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরি করা হয়েছে।

    পুরসভার বর্জ্য অপসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের রোগ ছড়ানো প্রতিরোধে চিকিৎসা–বর্জ্য নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই একটা বড়সড় প্রকল্পের পরিকল্পনা করছিল পুরসভা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এই প্রকল্পের জন্য যে পরিমাণ বড় জমির প্রয়োজন ছিল, তা পাওয়া যাচ্ছিল না। শেষমেষ ধাপার কাছে ৭৩ হেক্টর জমি চিহ্নিত করে পুরসভা। এর পরেই এই প্রকল্প নিয়ে তোড়জোর শুরু হয় পুরসভার অন্দরে। কৃষকদের জমির দাম বাবদ ক্ষতিপূরণ দিয়ে এই জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। পুরসভার তরফে পরিবেশগত ছাড়পত্রের আবেদনও করা হয়েছে এই প্রকল্প রূপায়ণের জন্য। এই প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসা–বর্জ্যের একাংশ জৈব বর্জ্যে পরিণত করারও পরিকল্পনা নিয়েছে পুরসভা। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প রূপায়ণে ই–টেন্ডার জারি করা হয়েছে বলে পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে। পুরো প্রকল্পটি রূপায়ণ করবে কলকাতা পুরসভার বর্জ্য অপসারণ বিভাগ।

    কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের একাধিক আধিকারিক জানান, চিকিৎসা বর্জ্য পৃথকীকরণ করার ব্যবস্থা কলকাতায় থাকলেও ইনসিনারেশন (অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রায় পুড়িয়ে ধ্বংস করা) ব্যবস্থা নেই। তবে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে, চিকিৎসা–বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বা বায়োমেডিক্যাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট আরও জোরদার হবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় আধিকারিকদের দাবি, সব থেকে বড় বিষয় হচ্ছে, রোগ–সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে এই প্রকল্প সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে যার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    বর্জ্য অপসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পে অনেক বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানেরও চিকিৎসা–বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ করা হবে। এতে পুরসভার বর্জ্য অপসারণ বিভাগের রাজস্ব আদায় আরও বৃদ্ধি পাবে বলে ওই সংশ্লিষ্ট কাজের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা আশা করছেন। বর্জ্য অপসারণ বিভাগের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, কলকাতার বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং পরিবেশ দূষণের বিষয়টি অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িয়ে রয়েছে। বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থাপনায় এই ধরনের প্রকল্প খুবই কার্যকর ভূমিকা নিয়ে থাকে। তিনি জানান, প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সারা দেশে চিকিৎসা–বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ ব্যবাস্থাপনায় একটি পৃথক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে।

  • Link to this news (এই সময়)