এই সময়: রাজ্যের প্রায় ৬০ লক্ষ 'আন্ডার অ্যাজুডিকেশন' বা 'বিচারাধীন' ভোটারের নথির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না–হওয়া পর্যন্ত কি বাংলায় বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষিত হবে? এই 'বিচারাধীন' ভোটাররা কি এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন? এ নিয়েই এখন রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে রাজ্যে। তৃণমূল তো বটেই, এমনকী বিরোধী কংগ্রেস–বামেরাও এই ৬০ লক্ষ ভোটারের নথির নিষ্পত্তি না–হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের পক্ষপাতী নয়। এরমধ্যেই শুক্রবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিয়ে 'অ্যাজুডিকেশন' তালিকাভুক্তদের দৈনিক নিষ্পত্তির ভিত্তিতে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন, যা চূড়ান্ত ভোটার তালিকার অংশ হিসেবে কার্যকর হবে।
চিঠিতে তাঁর বক্তব্য, 'সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে, প্রতিদিন বিচারকরা যাঁদের মামলাগুলির নিষ্পত্তি করবেন, স্বচ্ছতা রাখতে সেগুলি প্রকাশ্যে আনতে হবে। যাতে সাধারণ মানুষ দেখতে পান। যাঁর নাম বাদ গেল, তিনি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন জানাতে পারেন।' অভিষেক এই চিঠির কপি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক(সিইও) মনোজ আগরওয়ালকেও পাঠিয়েছেন।
অভিষেকের চিঠির পরে 'আন্ডার আ্যাজুডিকেশন' বা 'বিচারাধীন' ভোটারদের বিষয়টির নিষ্পত্তি না–হওয়া পর্যন্ত বাংলায় নির্বাচনী নির্ঘণ্ট প্রকাশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জোরদার। এ নিয়ে সিইও মনোজ আগরওয়াল অবশ্য বলেন, 'নির্বাচন সংক্রান্ত তারিখ আমি ঘোষণা করি না। আমার কোনও ক্ষমতা নেই। কমিশন আমার সঙ্গে আলোচনাও করবে না। এটা কমিশন বলতে পারবে। কমিশনের প্রতিনিধিরা চারটে রাজ্য ঘুরে এখানে আসছেন। তাঁরাই সিদ্ধান্ত নেবেন।'
আগামিকাল, রবিবার রাতেই রাজ্যে আসছে কমিশনের ফুলবেঞ্চ। সোমবার সকাল থেকেই তারা রীতি মেনে ভোট প্রস্তুতি নিয়ে রাজ্যের আট রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের সঙ্গে আলাদা আলাদা করে কথা বলবে। সূত্রের দাবি, সেখানেও রাজনৈতিক দলগুলি 'বিচারাধীন'দের প্রসঙ্গ তুলবে। এর মধ্যে আগামী মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে বাংলার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (সার) সংক্রান্ত মামলার শুনানি রয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলিও আদালতের দিকে তাকিয়ে। ওই দিনও কমিশনের ফুলবেঞ্চ এ রাজ্যেই থাকবে।