এই সময়, মধ্যমগ্রাম: একদিকে ইংরাজি মাধ্যম, অন্যদিকে নামী সরকারি বাংলা মাধ্যম স্কুলে পড়াশোনার প্রবণতা। এই দুইয়ের ফলে বহু বছর ধরে মধ্যমগ্রামের সরকার অনুমোদিত দু'টি স্কুল ধুঁকছিল। একটি স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকা ও গুটিকতক পড়ুয়া থাকলেও ছিল না স্কুলের নিজস্ব ভবন। প্রাইমারি স্কুলের ভবন ব্যবহার করতে হতো তাদের। আর একটি স্কুলের নিজস্ব জমি থেকে দোতলা স্কুল ভবন থাকলেও ছিল না পড়ুয়া। একজন মাত্র গেস্ট টিচার ছিলেন টিমটিম করে। এই পরিস্থিতিতে সরকারি স্কুলে শিক্ষার মানের অগ্রগতির লক্ষ্যে মধ্যমগ্রামের আব্দালপুর গভর্নমেন্ট কলোনি জুনিয়র হাইস্কুল এবং শ্রীনগর হাইস্কুলের সংযুক্তিকরণ করল শিক্ষা দপ্তর।
অভিভাবকদের সম্মতি এবং মধ্যমগ্রামের বিধায়কের চেষ্টায় রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর সম্প্রতি এই সংযুক্তিকরণের ছাড়পত্র দিয়েছে। আব্দালপুর গভর্নমেন্ট কলোনি জুনিয়র হাইস্কুলের টিচিং ও নন টিচিং স্টাফ এবং পড়ুয়াদের নিয়ে শুক্রবার পথচলা শুরু হলো মধ্যমগ্রাম শ্রীনগর হাইস্কুলের। শুক্রবার একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এর সূচনায় হাজির ছিলেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ, পুরসভার চেয়ারম্যান নিমাই ঘোষ, মধ্যমগ্রাম সার্কেলের এসআই সোমা মণ্ডল।
মধ্যমগ্রাম যশোহর রোডের পশ্চিম দিকে সরকার অনুমোদিত একাধিক নামি বয়েজ ও গার্লস স্কুল রয়েছে। এই স্কুলগুলিতে ভর্তি হওয়ার চাহিদাও বেশি। শহরের পশ্চিম অংশে ইংরাজি মাধ্যম স্কুলের সংখ্যাও কম নয়। অথচ শহরের পূর্বদিকে তেমন ভালো মানের কোনও সরকারি স্কুল নেই। ফলে পূর্বদিকের বিশাল জনপদের অভিভাবকরা তাদের ছেলেমেয়েদের পশ্চিম দিকের সরকারি স্কুলে ভর্তি করাতে প্রাণপণ চেষ্টা করেন। এই প্রবণতা এবং পরিকাঠামোগত অনুন্নয়নের জন্য বহু বছর ধরে মধ্যমগ্রামের পূর্বদিকের আব্দালপুর গভর্নমেন্ট কলোনি জুনিয়র হাইস্কুল এবং শ্রীনগর জুনিয়র হাইস্কুল দু'টি ধুঁকছিল। আব্দালপুরের ওই জুনিয়র হাইস্কুলে শিক্ষক শিক্ষিকা রয়েছেন পাঁচজন। একজন নন টিচিং স্টাফ। পড়ুয়ার সংখ্যা মাত্র ৪০। কিন্তু স্কুলের নিজস্ব ভবন ছিল না। প্রাইমারি স্কুল শেষ হলে শুরু হতো জুনিয়র হাইস্কুল।
অন্যদিকে, শ্রীনগর জুনিয়র হাইস্কুলের নিজস্ব জমি রয়েছে। দোতলা স্কুল ভবন রয়েছে। ২০২৪ সালে স্কুলটি উন্নীত হয় মাধ্যমিক স্তরে। কিন্তু পড়ুয়ার সংখ্যা খাতায় কলমে ১০ জন থাকলেও কেউ স্কুলে আসত না। গেস্ট টিচার ছিলেন একজন। স্কুলে এলাকার ছাত্রছাত্রীদের টানতে প্রচারও করা হয়েছিল। কিন্তু সুরাহা মেলেনি। দু'টি সরকারি স্কুলের হাল ফেরাতে উদ্যোগী হন খাদ্যমন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক রথীন ঘোষ। তিনি আলোচনা করেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সঙ্গে।
তার পরেই অভিভাবকদের সম্মতি নিয়ে রাজ্য শিক্ষা দপ্তর এই দু'টি সরকারি স্কুলের সংযুক্তিকরণে ছাড়পত্র দেয়। আব্দালপুর হাইস্কুলের পাঁচজন টিচিং স্টাফ, একজন নন টিচিং স্টাফ ও ৪০ জন ছাত্রছাত্রী শুক্রবার শ্রীনগর হাইস্কুলে অন্তর্ভুক্ত হলেন। জেলার মধ্যে সরকারি দু'টি স্কুলের সংযুক্তিকরণ এই প্রথম। এ বার থেকে শ্রীনগর হাইস্কুলের পড়ুয়ারা মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে পারবে।
রথীন ঘোষ বলেন, 'দু'টি সরকারি স্কুলের পরিকাঠামোর ঘাটতি ছিল। শহরের পূর্ব দিকের ছাত্রছাত্রীদের ব্যস্ত যশোহর রোড অতিক্রম করে পশ্চিম দিকের স্কুলে যেতে হতো।' শ্রীনগর হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা কৃষ্ণকলি চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'এই সংযুক্তিকরণ সহজ ছিল না। আমাদের লক্ষ্য পড়াশোনার মান উন্নত রাখা।'