• খোদ বিএলও-র নামই 'Deleted' তালিকায়, চাঞ্চল্য মালদায়
    এই সময় | ০৭ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়, মালদা: যিনি গত তিন-চার মাস ধরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনিউমারেশন ফর্ম (Enumeration Form) জমা দিলেন, তথ্য আপলোড করলেন, কয়েকশো মানুষের ফোন ধরে তাঁদের অভিযোগ শুনলেন, দূর করলেন সাধারণ মানুষের আশঙ্কা-সেই বুথ লেভেল অফিসারের (বিএলও) (BLO) নাম বাদ পড়ল চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (Final Voter List) থেকে। মালদার গাজোলের এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) (Election Commission) বিরুদ্ধে অসন্তোষ ছড়িয়েছে। এখানেই শেষ নয়, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া শয়ে শয়ে মানুষ শুক্রবার ভিড় জমালেন মালদার জেলাশাসকের অফিসে।

    বেঁচে থেকেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদে নিজেদের 'ভূত' বলে পরিচয় দিয়ে প্রশাসনিক ভবনেই ধর্নায় বসলেন বহু মানুষ। অনেক 'ডিলিটেড' মানুষই এ দিন ক্ষোভের সঙ্গে ফর্ম-৬ জমা দিয়ে নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। ইংরেজবাজার শহর থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে ঝলঝলিয়া এলাকা। সেখান থেকে শহরের জেলা প্রশাসনিক ভবনে এসেছিলেন ৬৫ বছরের ভবিয়া মণ্ডল। চূড়ান্ত লিস্ট থেকে তাঁর নাম বাদ গিয়েছে। ভবিয়া বলেন, 'এতদিন ধরে ভোট দিয়েছি। স্বামী মারা গিয়েছেন। ছেলেরাও বাইরে থাকে। এখন চিতায় ওঠার সময় এসেছে, তার আগেই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ হয়ে গেল। না-মরেও ভূত হয়ে এখানে এসেছি। আবার নতুন করে কাগজপত্র জমা দিতে হলো।'

    তাঁর মতোই 'ডিলিটেড' কাজল মণ্ডল, মাধবী হাঁসদা, মিনতি মণ্ডলরা এ দিন এসেছিলেন ডিএম অফিসে। তাঁরা একসুরে বলেন, 'জীবন্ত থাকার প্রমাণপত্র নিয়ে নতুন করে নাম তুলতে এসেছি।' গাজোলের সুকান্তপল্লি এলাকার ১৫২ নম্বর বুথের ভোটার, প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক মানিক কুণ্ডু ৫৬ পার্টের বিএলও হিসেবে এতদিন কাজ করেছেন। তাঁর নাম বাদ গিয়েছে চূড়ান্ত তালিকা থেকে। তিনি বলেন, 'এক জন সরকারি কর্মী হয়ে আমার নাম বাদ চলে গিয়েছে। অথচ আমার বাবা, মা ও ভাইয়ের নাম চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছে। এটা আমার কাছে আশ্চর্য লেগেছে। ব্লক প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনও সুরাহা হয়নি। নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি।'

    এই সমস্ত 'ডিলিটেড' ভোটারদের নিয়ে জেলাশাসক প্রীতি গোয়েলকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। চারদিকে যখন ইসিকে কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে, তখন মালদাতেই আবার ভোটার তালিকায় সঠিক ভাবে সংশোধনের ছবিও ধরা পড়েছে। হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভার মশালদহ এলাকার ব্যবসায়ী মোহন মুসদ্দির বাবার নাম এতদিন ভোটার তালিকায় ছিল নন্দলাল আগারওয়ালা। কিন্তু তাঁদের পদবি বরাবরই মুসদ্দি। যে হেতু তাঁর বাবার ওই নামে সরকারি রেশন দোকানের লাইসেন্স ছিল, তাই রেশন সামগ্রী বন্টনের ক্ষেত্রে যাতে কোনও সমস্যা না-হয়, সেই জন্য আগারওয়ালা পদবি পরিবর্তন করেননি। মোহন বলেন, 'সার শুরু হওয়ার পরে যখন সবকিছু স্বচ্ছ রাখার কথা বলা হলো, তখনই আমরা সব নথি দিয়ে বাবার পদবি সংশোধনের আবেদন জানাই। সেই আবেদন গৃহীত হয়েছে। চূড়ান্ত লিস্টে বাবার পদবি মুসদ্দি এসেছে। এ বছর জানুয়ারিতে বাবা মারা গিয়েছেন। এলাকার বিএলও আমাদের এই পদবির সমস্যা সমাধান করে দিয়েছেন।'

  • Link to this news (এই সময়)