আশিস নন্দী
২০২১–এর বিধানসভা নির্বাচনে বনগাঁ মহকুমার চার বিধানসভা কেন্দ্রেই জয়ী হয়েছিল বিজেপি। নাগরিকত্বের আশায় মতুয়ারা উজাড় করে ভোট দিয়েছিলেন পদ্মের ঝুলিতে। কিন্তু ২০২৬–এর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে মতুয়া ভোট নিয়ে সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে চারটি কেন্দ্রে যে ব্যবধানে জয়ী হয়েছিল বিজেপি, তার থেকেও বেশি ভোটার এখন 'বিচারাধীন' তালিকায়। এদের সিংভাগই মতুয়া সম্প্রদায়ের বলে দাবি জেলা প্রশাসনের।
ওয়াকিবহল মহলের বক্তব্য, নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এতদিন যাদের সমর্থন পেত বিজেপি, সেই মতুয়াদের বিরাট অংশ অনিশ্চয়তার তালিকায় থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও মতুয়া ভোট নিয়ে চিন্তা লুকোতে পারছেন না বনগাঁর পদ্ম নেতারা।
২০২১ সালে বাগদা কেন্দ্রে বিজেপির জয়ের মার্জিন ছিল ৯৭৯২ ভোট। অথচ সেই কেন্দ্রেই বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা ১৩,৪৫৯। বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রে বিজেপির লিড ছিল ১০,৪৮৮। কিন্তু এখানে বিচারাধীন ভোটার ১২,২৯৬। বনগাঁ দক্ষিণে বিজেপি জয় পেয়েছিল মাত্র ২ হাজার ৪ ভোটে। সেখানে বিচারাধীন ১৩,৪৪৭ জন। আর গাইঘাটা কেন্দ্রে বিজেপির লিড ছিল ৯৫৭৮। এখানে বিচারাধীন ভোটার ২২,২৭৮।
বনগাঁ মহকুমা দীর্ঘদিন ধরেই মতুয়া রাজনীতির ভরকেন্দ্র। স্বাধীনতার পর থেকেই মতুয়ারা বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে ভারতে এসেছেন। ভারতে বসবাসের জন্য এ দেশের ভোটার কার্ড, আধার কার্ড রয়েছে মতুয়াদের। ২০১৯–এ নরেন্দ্র মোদী সরকার মতুয়াদের নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাজিমাত করেছিল। ২০১৯ থেকে সব ভোটেই মতুয়ারা দুহাত উপুড় করে ভোট দিয়েছে বিজেপিকে। ফলে তৃণমূলের দীর্ঘলালিত মতুয়া ভোট ব্যাঙ্কে ধস নামে দ্রুত।
সার প্রক্রিয়া শুরু হতেই বেনাগরিক হওয়ার ভয় চেপে বসেছিল মতুয়াদের মধ্যে। কমিশনের নির্ধারিত নথি না থাকায় মতুয়াদের বিরাট অংশ শুনানিতেই যাননি। চূড়ান্ত তালিকায় বনগাঁ উত্তর, দক্ষিণ, বাগদা এবং গাইঘাটা থেকে নাম বাদ গিয়েছে ৩৬ হাজার ৯০১ জনের। এর মধ্যে ৮৫ শতাংশ মতুয়া। চার কেন্দ্রে বিচারাধীন ৬১,৪৮০ জন ভোটার। তৃণমূল সূত্রের খবর, কী ভাবে এই ইস্যুকে সামনে রেখে বিজেপিকে চাপে রাখা যায়, তার ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে শাসক শিবিরের নেতারা।