আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে যে কেন্দ্রগুলি ইতিমধ্যেই চর্চায উঠে এসেছে, তার মধ্যে অন্যতম উত্তরপাড়া। প্রার্থী বদল হোক কিংবা ভোটের হারের ওঠানামা, উত্তরপাড়া আসনটি বরাবরই নজরকাড়া। শ্রীরামপুর সংসদ এলাকার অন্তর্গত এই বিধানসভা কেন্দ্রে এবার প্রার্থীতেও চমক থাকার ইঙ্গিত মিলছে। মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় CPIM-এর টিকিটে এই কেন্দ্রে লড়ছেন, তা একপ্রকার নিশ্চিত। আবার তৃণমূল বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিক এই কেন্দ্র থেকে টিকিট না-ও পেতে পারেন। জল্পনায় উঠে আসছে 'তৃণমূলের পাঁচালি' গেয়ে চর্চিত সঙ্গীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তীর নাম। তবে ভোটের পরিসংখ্যান কী বলছে? কেন মীনাক্ষীকেই এই কেন্দ্রে বাজি রাখছে CPIM?
২০১১ সালের ভোটের পরিসংখ্যান
পরিবর্তনের হাওয়ায় তৃণমূল প্রার্থী অনুপ ঘোষাল পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ৪ হাজার ৭৫৩ ভোট। পরিসংখ্যান ৫৯.৭৭%। দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন CPIM প্রার্থী শ্রুতিনাথ প্রহরাজ। পেয়েছিলেন ৬১ হাজার ৫৬০ ভোট। যা হয় ৩৫.১২%। BJP-র প্রণব চক্রবর্তী পেয়েছিলেন ৬ হাজার ১৬১ ভোট। পরিসংখ্যান ৩.৫২%।
২০১৬ সালের ভোটের পরিসংখ্যান
তৃণমূলের প্রবীর ঘোষাল পেয়েছিলেন ৮৪ হাজার ৯১৮ ভোট। পরিসংখ্যান ৪৪.৮৯%। দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন CPIM প্রার্থী শ্রুতিনাথ প্রহরাজ। পেয়েছিলেন ৭২ হাজার ৯১৮ ভোট। পরিসংখ্যান ৩৮.৫৫%। তৃতীয় স্থানে BJP প্রার্থী পেয়েছিলেন কৃষ্ণা ভট্টাচার্য। ভোটের হার ছিল ১২.৫২%।
২০২১ সালের ভোটের পরিসংখ্যান
তৃণমূল প্রার্থী কাঞ্চন মল্লিক পেয়েছিলেন ৯৩ হাজার ৮৭৮ ভোট। ভোটের হার ছিল ৪৬.৯৬%। BJP প্রার্থী প্রবীর কুমার ঘোষাল দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। পেয়েছিলেন ৫৭ হাজার ৮৮৯ ভোট। ভোটের হার ছিল ২৮.৯৬%। CPIM তৃতীয় স্থানে। প্রার্থী রজত বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছিলেন ৪২ হাজার ৭১৮ ভোট। পরিসংখ্যান ২১.৩৭%।
নজরকাড়া পরিসংখ্যান
তাৎপর্যপূর্ণ বদল ঘটেছে এই ৩ বিধানসভা নির্বাচনে। প্রার্থী বদল হয়েছে তৃণমূলের। তবে ২০১১ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে শাসকদলের ভোটের হার কমেছে ১৪.৮৮%। গত বিধানসভায় কাঞ্চন মল্লিক ২.০৭% ভোটের হার বাড়িয়েছিলেন ঠিকই তবে স্থানীয় ভোটারদের অধিকাংশই তাঁর কাছে খুশি নন বলে খবর। বিধায়ককে এলাকায় দেখা যায় না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এর মাঝেই ইমন চক্রবর্তীর নাম উঠে এসেছে জল্পনায়। সম্প্রতি বঙ্গবিভূষণ পুরস্কার নেওয়ার পাশাপাশি তৃণমূলের 'পাঁচালি' গেয়েও ট্রোলের শিকার হয়েছেন এই সঙ্গীতশিল্পী। তবুও রাজ্য সরকারের নানাবিধ অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছে তাঁকে।
আবার ২০১১ এবং ২০১৬ সালে দ্বিতীয় স্থানে থাকা বামেরা২০২১-এ তৃতীয় স্থানে চলে যায়। ২০১৬ সালে সামান্য ভোটের হার বাড়লেও গত বিধানসভা নির্বাচনে ১৭.১৮% ভোট কমেছে তাদের। যদিও তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে শ্রীরামপুর কেন্দ্রে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে CPIM-এর ভোট যেখানে ১৭.২২% কমেছিল, সেখানে ২০২৪ সেই ভোটের হার বেড়েছিল ৫.৪০%। প্রার্থী ছিলেন দীপ্সিতা ধর।
উত্তরপাড়া আসন থেকেই দীপ্সিতা ধর ভোট ধরে রাখতে পেরেছিলেন। তবে বামেদের তরফে এবার দীপ্সিতা নয়, উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে টিকিট দেওয়া হতে পারে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে। ২০২১-এ তিনি নজর কেড়েছিলেন নন্দীগ্রামে শুভেন্দু এবং মমতার বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়ে।
কাঞ্চনের বিরুদ্ধে এলাকার অসন্তোষ এবং উত্তরপাড়ায় বামেদের ভোটের হারের উপর ভর করে মীনাক্ষীকে বাজি রাখতে চলেছে CPIM। যদিও ইমনের মতো তারকা প্রার্থীর এন্ট্রি নতুন উত্তরপাড়কে সেই তৃণমূলের দিকেই ঝোঁকায় কি না, সেটাই এখন দেখার। তবে BJP এই কেন্দ্রে কাকে প্রার্থী করতে চলেছে, তার কোনও ইঙ্গিত এখনও মেলেনি। গত বিধানসভায় তৃণমূলত্যাগী প্রবীর ঘোষালই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।