বাজেট অধিবেশনের শুরু থেকেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার (Speaker Om Birla) বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগে সরব হয়েছে কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের একাংশ। তাঁর বিরুদ্ধে অপসারণ প্রস্তাবের (Motion for Removal) নোটিসও পেশ করেছে বিরোধী শিবির। সূত্রের খবর, এ বার দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এই নোটিসে স্বাক্ষর করবেন তৃণমূল সাংসদরাও (TMC MP)। আগামী সোমবার এই নিয়ে ভোটাভুটি হওয়ার সম্ভাবনা।
সোমবার থেকে শুরু হতে চলেছে বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব। ইতিমধ্যেই অধিবেশনের প্রথম তিন দিন দলীয় সাংসদদের উপস্থিত থাকতে হুইপ জারি করেছে বিজেপি এবং কংগ্রেস। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, দ্বিতীয় পর্বের শুরুতেই ওম বিড়লার অপসারণ নিয়ে আলোচনা এবং ভোটাভুটির আয়োজন করতে পারে সরকার পক্ষ।
উল্লেখ্য, বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্বেই ওম বিড়লার (Om Birla) অপসারণের দাবিতে নোটিস জমা দিয়েছিল বিরোধীরা। তবে সেই সময়ে অপসারণ প্রস্তাবে সই করেনি তৃণমূল। এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) জানিয়েছিলেন, তৃণমূল সুযোগ দেওয়ায় বিশ্বাসী। অভিষেকের কথায়, ‘আপনি ভুল করলে, আপনাকে তো সুযোগ দিতে হবে। না হলে বিজেপি আর আমাদের মধ্যে পার্থক্য কী থাকল? উপরাষ্ট্রপতি কথা শুনছেন না বলে এক ঝটকায় সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা ওদের মতো নই।’
সংসদের নিয়ম অনুযায়ী, লোকসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে অপসারণ প্রস্তাব আনতে নির্দিষ্ট সংখ্যক সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। বিরোধীদের জমা দেওয়া অপসারণের নোটিসে এখনও পর্যন্ত ১১৮ জন সাংসদ স্বাক্ষর করেছেন বলে সূত্রের খবর। তৃণমূল সাংসদরা এ বার এখানেই সই করবেন বলে জানা গিয়েছে।
তবে লোকসভায় কেন্দ্রীয় সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে স্পিকারের অনাস্থা প্রস্তাবে বিরোধীরা খুব বেশি সুবিধা করতে পারবে না বলেই দাবি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের। সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিরিখে বিরোধী শিবিরের পেশ করা অপসারণ প্রস্তাব খারিজ হওয়া এক প্রকার নিশ্চিত জেনেও কেন্দ্রীয় সরকারকে চেপে ধরতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস। উল্লেখ্য, এর আগেও লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার জি ভি মাভালঙ্কার(১৯৫৪), হুকুম সিং (১৯৬৬) এবং বলরাম জাখর (১৯৮৭)-এর বিরুদ্ধে ‘মোশন ফর রিমুভাল’ প্রস্তাব নিয়ে আসা হয়েছিল৷ কিন্তু তিন বারই প্রস্তাব খারিজ হয়ে যায়।