• বাসস্ট্যান্ডে কল থেকেও জল নেই, গরমে নাজেহাল যাত্রীরা
    এই সময় | ০৭ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়, চন্দ্রকোণা: গরম পড়তে শুরু করেছে। রাস্তাঘাটে বেরোলে বাড়ছে তেষ্টা। সমস্যাটা আরও বেড়েছে চন্দ্রকোণা কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ডে। কারণ এখানে পানীয় জলের কোনও বন্দোবস্তই নেই বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা। এদিকে প্রতিদিন এই বাসস্ট্যান্ড দিয়েই প্রায় ৮০টি রুটের বাস চলাচল করে। যাত্রীর চাপও যথেষ্ট। তা হলে কোনও পানীয় জলের (Drinking Water) ব্যবস্থা নেই কেন? সেখানকার দোকানীরা জানালেন পানীয় জলের জন্য দু’টি জলাধার রয়েছে ঠিকই। কিন্তু সেগুলোর কোনওটাই ঠিক অবস্থায় নেই।

    দীর্ঘ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে একটি ভেঙে গিয়েছে। আর দ্বিতীয়টি দীর্ঘদিন পরিষ্কার ন‍া করায় তার জল পানের অযোগ্য। দোকানীদের অভিযোগ সব জেনেও পুরসভা কোনও কিছু করে না। এই নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিত্যযাত্রীরাও।

    চন্দ্রকোণা পুরসভার (Chandrakona Municipality) ৪ নম্বর ওয়ার্ডে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ডেটি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৮–এ পরিবহণ দপ্তরের উদ্যোগে তৈরি হয়েছিল এই কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ডটি। সেসময়েই যাত্রীদের সুবিধার্থে দু’টি পানীয় জলের জলাধার তৈরি হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। এই বাসস্ট্যান্ড দিয়ে ৩০টি রুটের লোকাল বাস আর ৮০টি রুটের দূরপাল্লার বাস নিত্য যাতায়াত করে। প্রতিদিন প্রায় শতাধিক যাত্রী যাতায়াত করে থাকে এই বাসস্ট্যান্ড দিয়ে। কিন্তু গত কয়েক বছরে পানীয় জলের দু’টি জল‍াধারই কার্যত অকেজো হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ বাসযাত্রী থেকে সেখানকার ব্যবসায়ীদের।

    গরমের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ বাসের জন্য অপেক্ষা করতে করতে কারোর জল তেষ্টা পেলে তার জন্য দোকান থেকে কিনতে হবে। এ দিকে পানীয় জলের জলাধার থেকেও সেটি অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। সমস্যায় পড়েন বাসস্ট্যান্ডের ব্যবসায়ী এবং বাসকর্মীরাও। বাসস্ট্যান্ডে চা মুড়ি বিক্রি করেন শেখ জসীমউদ্দিন বলেন, ‘খাবার দোকানে জল না রাখলে চলে না। এখানে খাবার জল নেই, যেটি রয়েছে তার জল কাস্টমারদের খাইয়ে যদি কোনও বিপদ ঘটে। কে দায় নেবে। তাই আমি বাইরে থেকে খাবার জল এনে রাখি। অনেকেই বাধ্য হয়ে নোংরা ওই ট্যাঙ্কের জল খান। আজ পর্যন্ত একবারও পরিষ্কার করা হয়নি। ট্যাঙ্কটি দেখলেই আর জল খেতে ইচ্ছে করবে না। এতো নোংরা হয়ে রয়েছে।’ এক বাসযাত্রী বিমল কর বলেন, ‘এতবড় একটা বাসস্ট্যান্ড অথচ পানীয় জলের কোনও ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।’

    এদিকে বাসস্ট্যান্ডের পানীয় জলের বেহাল পরিষেবার দায় কার তা নিয়ে দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছে। প্রতি বছর চন্দ্রকোণা পুরসভা মোটা টাকায় টেন্ডার ডেকে লিজে দেয় এই কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ডটি। লিজ নেওয়া মালিক শেখ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই সমস্যা নতুন নয়, একবছরের লিজ নিয়েছি তার মেয়াদও শেষ হতে চলেছে। বাসস্ট্যান্ডের পরিকাঠামো উন্নয়ন বা জল পরিষেবা গড়ে তোলা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। জল সমস্যার বিষয়টি পুরসভাকে জানানো হয়েছে। তারাই পারলে সমাধান করতে পারবে।’

    চন্দ্রকোণা পুরসভার চেয়ারম্যান প্রতিমা পাত্র বলেন, ‘বাসস্ট্যান্ডে পানীয়জলের একটি ফিল্টার মেশিন বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেটি বসিয়ে দিলে সমস্যা অনেকটা মিটে যাবে। যে দু’টি জলাধার রয়েছে সেগুলোও মেরামত করে দেওয়া হবে।’ স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, ‘কয়েকদিন আগেই ঘাটালে পুরসভার জল খেয়ে বহু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। এই বাসস্ট্যান্ডের জলাধারের জল খেয়ে সেরকম ঘটনা ঘটতে পারে। এখনও কারও টনক না নড়লে কিছু বলার নেই।’

  • Link to this news (এই সময়)