সঞ্চিতা মুখোপাধ্যায়, পুরুলিয়া
বসন্তের আগমন মানেই রংয়ের উৎসব। তবে পুরুলিয়ার ক্ষেত্রে সেই ব্যাখ্যাটা একটু আলাদা ধরনের। এখানে ফাগুন আসে আগুনরঙা পলাশের উচ্ছলতা নিয়ে। দিগন্ত বিস্তৃত পলাশের শোভা দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকদের (Tourist) টেনে আনে এই জেলায়। কিন্তু সেই ছবিটাও এ বার যথেষ্ট বদলে গিয়েছে। দোল পেরিয়ে গিয়েছে, কিন্তু সেই অর্থে পলাশের দেখাই মেলেনি পুরুলিয়ায় (Purulia)। স্বঙ্গত কারণেই নিরাশ দোলের ছুটিতে পলাশে মোড়া পুরুলিয়ায় ঘুরতে আসা পর্যটকের দল। পাহাড় দেখতে নয়, শুধুমাত্র পলাশ ফুলের শোভা দেখতেই দোলের সময়ে এখানে ঘুরতে এসেছিলেন শিলিগুড়ির (Siliguri) মানসী ঘোষ, জয়শ্রী চক্রবর্তীরা। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত পলাশের আগুন দেখতে পাননি তাঁরা। 'কিছু দিন পরে এলে সেই দৃশ্য দেখা যেত।
তবে তখন তো আর ছুটি পাওয়া যায় না। তাই দোলের সময়েই এসেছিলাম এখানে। পরের বছর আগে থেকে সব খবর নিয়েই এখানে আসব,' বলছেন জয়শ্রী। একই বক্তব্য বর্ধমান থেকে আগত পায়েল দত্ত, শিবপ্রসাদ হালদারদের। তাঁরা বলছেন, 'এই সময়টাতে পলাশের শোভা দেখতেই পুরুলিয়ায় আসা। সেটা না-দেখতে পেয়ে খারাপই লাগছে।' কিন্তু এই বছরে তেমন ভাবে পলাশ ফুল ফুটল না কেন। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, কোনও কোনও বছর পলাশ অবশ্যই কম ফোটে। তবে পর্যটকদের জন্য আশার কথাই শুনিয়েছেন বাঘমুন্ডি লজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সুজিত কুমার। তিনি বলছেন, 'পলাশ ফুল ফোটার সময় এখনও অনেকটাই বাকি। তাই আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে চোখে পড়ার মতো পলাশ ফোটার আশা করাই যেতে পারে। আসলে ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এ বার দোল অনেকটা এগিয়ে পড়েছিল। পলাশের সময় তখনও আসেনি। গরম পড়লেই পলাশ ফুল ফুটবে।'
একই বক্তব্য পুরুলিয়ার সিধো কানহো বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যার অধ্যাপক সুব্রত রাহার। তিনি বলছেন, 'মাটিতে আর্দ্রতার পরিমাণ যদি বেশি থাকে, তা হলে তা পলাশ ফোটার ক্ষেত্রে বিঘ্ন হয়ে দাঁড়ায়। যেহেতু গত বর্ষায় অন্য বারের তুলনায় পুরুলিয়ায় বৃষ্টির পরিমাণ যথেষ্ট বেশি ছিল, তাই এখনও পর্যন্ত মাটিতে আর্দ্রতা রয়ে গিয়েছে। স্বভাবতই পলাশের ফুল আসতে দেরি হচ্ছে।' এ ছাড়াও সুব্রত আরও একটি কারণ দেখিয়েছেন। তিনি জানাচ্ছেন, শীতের স্থায়িত্ব দীর্ঘ হওয়ায় পলাশ ফুল ফুটতে দেরি হচ্ছে। তাঁর ব্যাখ্যা, 'পলাশ ফুল ফোটার জন্য যে উষ্ণ ও শুম্ভ আবহাওয়ার প্রয়োজন (Weather Forecast), সেই উষ্ণতা এখনও পর্যন্ত আবহাওয়ায় অমিল। ফলে ভরা বসন্তেও পুরুলিয়ায় অমিল পলাশ।' তবে তিনি জানাচ্ছেন, প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে আগে শিমূল ফুল ফোটে এবং তার ঝরার সময় হতেই পলাশ ফুটতে শুরু করে। বিগত কয়েক দিনে বেশ ভালো পরিমাণে শিমুল ফুল দেখা যাচ্ছে। খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে পুরুলিয়া সেজে উঠবে তার পরিচিত পলাশের রংয়ে।'